বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বা একিউআইএস নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের জন্য নতুন সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- অর্থপাচারের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও প্রায় ছয় মাস বিদেশে অবস্থান শেষে দেশে ফিরেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের নেতা শের বাহাদুর দেউবা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান দেউবা। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ শত শত সমর্থকের দিকে হাত নেড়ে ও হাসিমুখে অভিবাদন জানান তিনি।
দেউবার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় এবং সমর্থকদের আয়োজিত সমাবেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেউবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাটি দেশটির মানি লন্ডারিং তদন্ত বিভাগ পরিচালনা করছে।
গত এপ্রিল মাসে অর্থপাচারের অভিযোগে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নেপাল পুলিশ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
দেউবার স্ত্রী ও নেপালের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও একই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর থেকে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন।নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর দেশটির কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত ও ধরপাকড় শুরু হয়েছে।
এর আগে গত মার্চে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য তাদের আটক করা হয়।
নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারের স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হয়েছিল ওই আন্দোলন। পরে তা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তৎকালীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
ওই বিক্ষোভের সময় শের বাহাদুর দেউবার বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের দেউবা ও তাঁর স্ত্রীকে আক্রমণের চেষ্টা করতে দেখা যায়।
বিক্ষোভের সময় দেউবার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে বিক্ষোভের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের কাছে দেওয়া বক্তব্যে এসব ভিডিওকে সম্ভাব্য ভুয়া বলে দাবি করেন দেউবা।
তিনি ওই ঘটনাকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তবে এর পেছনে কারা রয়েছে তা তিনি জানেন না।তবে তদন্ত কমিশন দেউবার বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে।
রাজনৈতিকভাবে দেউবার অবস্থানও সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বল হয়েছে। তরুণ নেতাদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবির মুখে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শের বাহাদুর দেউবা। দেশটির রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা অবস্থায় তাঁর দেশে ফেরার পর এখন অর্থপাচারের মামলায় তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেটিই নজরে রয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au