বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বা একিউআইএস নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের জন্য নতুন সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১৪ আগস্ট- সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড হিলসে কর্মস্থল থেকে বাড়ি না ফেরায় ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যের মুখোমুখি হয়েছেন এক বাবা। ২৬ বছর বয়সী কর্মী জশ থমসন-পারকিনকে একটি বাণিজ্যিক কাঠ কাটার মেশিনের ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সেফওয়ার্ক সাউথ অস্ট্রেলিয়া (SafeWork SA)।
মঙ্গলবার অ্যাডিলেড হিলসের চার্লস্টনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি বাণিজ্যিক উডচিপার বা কাঠ কাটার মেশিন নিয়ে কাজ করছিলেন জশ।
রাত পেরিয়ে বুধবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জশ বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী মেকায়লা। মাত্র কয়েক মাস আগে, গত এপ্রিলে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল।

জশ থমসন-পারকিন ও তাঁর স্ত্রী মেকায়লার বিয়ে হয় গত এপ্রিলে।
ছবি: 7News
জশের বাবা ম্যাক পারকিন জানান, ছেলের বাড়ি না ফেরার খবর পেয়ে তাঁর মনে দ্রুতই আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে তিনি নিজেই ছেলেকে খুঁজতে কর্মস্থলে যান।সেখানে গিয়ে তিনি যে দৃশ্য দেখেন, তা ছিল তাঁর জন্য অকল্পনীয়।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম 7News-কে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ম্যাক পারকিন বলেন, ‘আমি তাকে ওই মেশিনের ভেতরে পেয়েছি।’
আগের রাতেই মেশিন নিয়ে সমস্যার কথা বলেছিলেন জশ
জশের বাবা জানান, দুর্ঘটনার আগের রাতে ছেলে তাঁকে ওই কাঠ কাটার মেশিন নিয়ে সমস্যার কথা বলেছিলেন।দিনভর মেশিনটি তাঁকে ভোগাচ্ছিল এবং বারবার সমস্যায় পড়ছিলেন জশ। কাজের মধ্যেই সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলেন তিনি।
পরিবারের ধারণা, একপর্যায়ে মেশিনটি আটকে যায়। সেটি পরিষ্কার করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন জশ।
ম্যাক পারকিন বলেন, ‘মেশিনটি আটকে গিয়েছিল। সে সেটি পরিষ্কার করতে ভেতরে গিয়েছিল। এরপর মেশিনের অংশটি তার ওপর পড়ে যায় এবং তাকে চাপা দিয়ে ফেলে।’

জশ কেন একা কাজ করছিলেন, তা নিয়ে তাঁর বাবা-মা জবাব চাইছেন।
ছবি: 7News
তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
কর্মস্থলে একা কেন ছিলেন, প্রশ্ন পরিবারের
জশের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর পরিবার।
তাঁদের প্রশ্ন, জশ যদি কর্মস্থলে একা কাজ করে থাকেন, তাহলে সেখানে তাঁর সঙ্গে আর কেউ ছিলেন না কেন এবং তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর কর্মস্থলের কেউ বিষয়টি বুঝতে পারলেন না কেন।
ম্যাক পারকিন বলেন, ‘কাজ শেষ করে সে বেরিয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য সেখানে কোনো কর্মী ছিল না কেন?’তাঁর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কেন ছেলের কর্মস্থলের কেউ নয়, বরং তাকেই শেষ পর্যন্ত ছেলেকে খুঁজে বের করতে যেতে হলো।
তদন্ত করছে SafeWork SA
ঘটনার পর সেফওয়ার্ক সাউথ অস্ট্রেলিয়া তদন্ত শুরু করেছে। কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দুর্ঘটনার কারণ এবং জশ কী পরিস্থিতিতে মেশিনটির ভেতরে গিয়েছিলেন, সেসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
জশ যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছিলেন, সেই মেকানিক্যাল ভেজিটেশন সলিউশন্স (Mechanical Vegetation Solutions) ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেফওয়ার্ক এসএর তদন্ত চলমান থাকায় তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করবে না।
‘এর চেয়ে ভালো ছেলে পাওয়া যায় না’
দুর্ঘটনার তদন্ত চললেও পরিবার এখন শোকের মধ্যে জশকে স্মরণ করছে একজন ভালোবাসায় ঘেরা তরুণ হিসেবে।জশের মা তানিয়া তাঁকে বর্ণনা করেছেন পরিবারের জন্য ‘সবচেয়ে ভালো ছেলে’ হিসেবে।
ছেলের শৈশবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সে যখন ছোট ছিল, আমি সবসময় বলতাম, নিজের সন্তান বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলে এর চেয়ে ভালো সন্তান আর বেছে নিতে পারতে না।’
পরিবারের কাছে জশ ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাকে নিয়ে তাঁরা গভীরভাবে গর্বিত ছিলেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে কর্মস্থলে তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা জানতে সেফওয়ার্ক এসএর তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছে পরিবার।
সূত্র-নিউজ কম এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au