ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ২০
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরের ওই ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি আফটারশকও অনুভূত হয়। দেশটির…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট: দেশের গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে, যা গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অথচ দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।
নতুন এলএনজি কার্গো সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে না পারায় এতদিন টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। মজুত প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়।
দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে দীর্ঘদিন ধরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়া এবং পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০০৯ সালে দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ছিল প্রায় ১৭৪ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট। এরপর কয়েক বছরে উৎপাদন বাড়লেও ২০১৮ সালে দেশীয় উৎস থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। বর্তমানে পুরোনো কূপগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ কোটি ঘনফুটে।
দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে গ্যাসের চাহিদা পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু একের পর এক এলএনজি টার্মিনাল ও কার্গো নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের বড় অংশ সামিটের টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
এরপর সামিট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। পরে তা কমিয়ে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে রাখা হয়।
তবে সোমবার এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও উত্তাল সমুদ্রের কারণে সেটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে কার্গো থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি। টার্মিনালে আগে থেকে মজুত থাকা এলএনজি দিয়েই সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ চালিয়ে যেতে হয়।
মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সরবরাহ কমাতে শুরু করে সামিট। মঙ্গলবার সরবরাহ কমিয়ে ২০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়। এরপর বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে মাত্র ১০ কোটি ঘনফুট করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সামিটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে গত ৬ আগস্ট থেকে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ আংশিকভাবে চালু রয়েছে। ওই টার্মিনাল থেকে বর্তমানে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের মধ্যে এলএনজি কার্গো গ্রহণ নিয়েও নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা ‘আল হামরা’ নামের একটি এলএনজি কার্গো মহেশখালীর কোনো টার্মিনালই গ্রহণ করেনি।
এডিএনওসির মাধ্যমে সরবরাহ করা ওই কার্গো নিয়ে বিমা-সংক্রান্ত আপত্তি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ কারণে কার্গোটি গ্রহণ করা হয়নি।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানান, কার্গোটি পরিবর্তনের জন্য সৌদি আরামকোর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।
গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ কমে গেলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এই খাতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রতিদিন প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত। বর্তমানে তাদের দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট।
এ ছাড়া সার উৎপাদনে যাচ্ছে প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতের জন্য অবশিষ্ট থাকছে মাত্র প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।
এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়। বর্তমানে পেট্রোবাংলা গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুটে রাখার চেষ্টা করছে।
তবে সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়া, কার্গো খালাসে জটিলতা এবং টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে এলএনজি সরবরাহ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় দুই দিক থেকেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।
দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো না গেলে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে এই সংকটের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এলএনজি টার্মিনালগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারকে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিয়েই এগোতে হবে। সংকটের মুহূর্তে হঠাৎ করে দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
পেট্রোবাংলার একজন পরিচালক জানান, সমুদ্র পরিস্থিতির উন্নতি হলে শুক্রবার রাতে এলএনজি কার্গোটি টার্মিনালে যুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে শনিবার ভোরে কার্গো থেকে এলএনজি গ্রহণ এবং দুপুরের পর সামিট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে।
তবে সামগ্রিক গ্যাস সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে ৭২ ঘণ্টা পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন হবে। ওই সময়ও টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।
ফলে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আবার শুরু হলেও জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এতে আপাতত শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সংকটের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au