ধানমন্ডি ৩২ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, শ্রদ্ধা জানাতে এসে যুবক আটক
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- সিলেটের রায়নগরে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা দাবি করেছেন, জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও একাধিক হুমকির জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ‘ভাড়াটে খুনি’ দিয়ে তার বাবা-মা ও গৃহপরিচারিকাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন তিনি।
মামলার এজাহারে সেলিনা সুলতানা উল্লেখ করেন, তার বাবা এম এ সাত্তার ১৯৯৭ সালে সিলেট পুলিশ লাইন্স লুসাই গির্জা সমিতির কাছ থেকে রিকাবীবাজারের সরফপুর এলাকায় প্রায় ১২ শতক জমি ইজারা নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। পরে ২০০৬ সালে ইম্পালস বিজনেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ওই জমিসহ সমিতির আরও কিছু জমি তার প্রতিষ্ঠানের নামে দলিল করে মালিকানা দাবি করেন। এরপর থেকেই তাদের পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৬ সালে এম এ সাত্তার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার বাবাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তার বাবা সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন।
এজাহারে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারির একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন সেলিনা। তার অভিযোগ, ওই দিন বিকেলে সিরাজুল ইসলাম, আমিন হোসেনসহ কয়েকজন তাদের বাসায় গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা চলে যান। পরে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সেলিনা।
এ ছাড়া গত ২৮ ও ৩০ জুলাই আদালত প্রাঙ্গণেও এম এ সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব বিরোধ ও হুমকির ধারাবাহিকতায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করেছেন নিহত দম্পতির মেয়ে।
সেলিনা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর তাদের বাসা থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, সাধারণ ডায়েরির কপি এবং জমিসংক্রান্ত দলিলপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি অন্যদিকে ঘোরানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে।
মামলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সেলিনা সুলতানা বলেন, তার বাবা-মা যেভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে নিয়েও তিনি বলেন, তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা নিহত হয়েছেন। তাহমিনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্কের যে কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া একা তিনজনকে হত্যা করতে পারেন না বলেও দাবি করেছেন সেলিনা। তার ভাষায়, ‘তিনটি হত্যাকাণ্ড এই ছেলেটা করতে পারে না। এর পেছনে বড় কোনো হাত আছে।’
নিহত এম এ সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার বলেন, তারা তদন্তের অগ্রগতি দেখতে চান এবং গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন।
এর আগে গত বুধবার সকালে রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে এম এ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত এম এ সাত্তারের বয়স ছিল ৮২ বছর, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের ৭৬ বছর এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনার বয়স ২৫ বছর।
হত্যাকাণ্ডের দিন বিকেলে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে বাবুল মিয়া নামে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রংমিস্ত্রির কাজের সূত্রে গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। তবে নিহত দম্পতির পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ তাহমিনাকে ঘিরে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ ও পূর্বের হুমকির ঘটনা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় নিহত এম এ সাত্তারের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরোধের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে করা অভিযোগ এবং পুলিশের হাতে থাকা তথ্য, দুই দিক বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au