বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন স্মিথ
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডে ইংল্যান্ডের জো…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য যাচাই করছে বলে একটি ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে উঠে এসেছে। নথিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা সুরক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি কতটা সমর্থনশীল, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা -এর পর্যালোচনা করা ওই নথিতে ন্যাটোর প্রতিটি সদস্য দেশের কাছে বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন, বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনের অবস্থানের প্রতি মিত্রদের সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরোপ করা বিধিনিষেধ।
প্রশ্নপত্রে জানতে চাওয়া হয়েছে, ন্যাটোর সঙ্গে আগাম পরামর্শ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত সামরিক অভিযানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে কি না। পাশাপাশি, নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে কমানো বা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার বিষয়ে দেশগুলো কতটা প্রস্তুত, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত কয়েকজনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ এ ধরনের উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার সঙ্গে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানকে যুক্ত করার মাধ্যমে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
প্রশ্নপত্রে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের একটি বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি মিত্র দেশগুলোকে মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শক্ত, স্পষ্ট এবং নীরব অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
ফাঁস হওয়া নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ন্যাটোর অনুমোদন ছাড়াই ইরানে হামলা চালানোর পর কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ওয়াশিংটনকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর মধ্যে স্পেনও ছিল। প্রশ্নপত্রে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার প্রতি মিত্র দেশগুলোর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত অভিযানের বিষয়টিও এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ওই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছিল।
প্রশ্নপত্রে প্রতিরক্ষা খাতে মিত্র দেশগুলো মার্কিন কোম্পানিকে চুক্তি দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে কি না, ইউরোপে তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার নীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে কি না, সেসব বিষয়ও জানতে চাওয়া হয়েছে। কোনো দেশ এখন পর্যন্ত এমন বিরোধিতা না করে থাকলে ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে প্রস্তুত কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পেন্টাগনের ছয় মাসের পর্যালোচনার মধ্যেই প্রশ্নপত্রটি প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশ আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। একই সময়ে পোল্যান্ডে আরও ৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জাতীয়তাবাদী মিত্রের বিজয়ের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এ ধরনের পর্যালোচনা যুক্তিসংগত এবং এর মাধ্যমে ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে।
তবে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে সামরিক সুরক্ষা ও রাজনৈতিক আনুগত্যকে একই কাঠামোর মধ্যে বিবেচনা করার বিষয়টি ন্যাটোর দীর্ঘদিনের নীতিকে ঘিরে প্রশ্ন তৈরি করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত এই সামরিক জোটের অন্যতম মূল ভিত্তি ছিল সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করা হয়।
চলতি মাসের শেষ দিকে ব্রাসেলসে ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।
সুত্রঃ ব্লুমবার্গ নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au