বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন স্মিথ
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডে ইংল্যান্ডের জো…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আইন বাতিল করেছে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত। আদালতের মতে, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা শিশু-কিশোরদের মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেছে।
শুক্রবার ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ এ রায় দেয়। এর আগে গত জুলাইয়ে দেশটির আইনপ্রণেতারা ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। আইনটি কার্যকর হলে শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে ফ্রান্স ইউরোপের অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দেশ হিসেবে পরিচিত হতো।
শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর এই আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই সাংবিধানিক পরিষদের রায়ে তা বাতিল হয়ে গেল।
সাংবিধানিক পরিষদ জানিয়েছে, তারা আইনের প্রথম ধারা পর্যালোচনা করেছে। ওই ধারায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছিল। পরিষদের মতে, এই বিধান শিশু-কিশোরদের মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতায় এমনভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, যা উপযুক্ত, প্রয়োজনীয় কিংবা মাত্রানুযায়ী নয়।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের আগে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও আদালতের উদ্বেগের কারণ হয়েছে। পরিষদ বলেছে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না।
রায়ের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখো নতুন করে আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুকে নতুন একটি খসড়া আইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, নতুন আইন তৈরির সময় সাংবিধানিক পরিষদের পর্যবেক্ষণ ও আপত্তিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ম্যাখো ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই নতুন বিধান কার্যকর করতে চান বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। গত মাসে আইনপ্রণেতারা বিলটি পাস করার পর প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু এর কিছু অংশ সাংবিধানিক পরিষদের পর্যালোচনার জন্য পাঠিয়েছিলেন।
বাতিল হওয়া আইনে সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা ছিল। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি আগামী জানুয়ারি থেকে পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চালুর পরিকল্পনা ছিল।
তবে আইনটি নিয়ে শুরু থেকেই গোপনীয়তা ও বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ব্যবহারকারীর বয়স কীভাবে নির্ভুলভাবে যাচাই করা হবে, বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে এবং শিশু-কিশোররা প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে সমালোচনা ছিল। সাংবিধানিক পরিষদের রায়েও বয়স যাচাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ শুধু ফ্রান্সেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই জোরালো হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে জাতীয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। দেশটি এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা বিশ্বের প্রথম দেশ।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নতুন আইন প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যও শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধের পরিকল্পনা করছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার গত জুনে ঘোষণা দেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য রাত ১২টার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার একটি ঐচ্ছিক ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদের রায়ের ফলে আপাতত ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দেশটির প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না। তবে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোর নতুন উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো বিধিনিষেধ সামনে আসতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au