বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন স্মিথ
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডে ইংল্যান্ডের জো…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- চৌর্যবৃত্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পদত্যাগের এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আরডেকে দক্ষিণ লন্ডনের একটি বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুর ঘটনায় আপাতত সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ।
৪১ বছর বয়সী জেসন আরডেকে শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসি এলাকার একটি ঠিকানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ডেবোরা প্রেন্টিস এক বিবৃতিতে জেসন আরডের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এমন মর্মান্তিক খবর শুনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে শোকাহত।
জেসন আরডে ২০২৩ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আলোচনায় আসেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ডক্টরেট গবেষণাপত্রের বিভিন্ন অংশ অন্য উৎস থেকে নকল করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবিদ ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযোগের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এরই মধ্যে গত ৫ আগস্ট আরডে অধ্যাপক পদ এবং কেমব্রিজের জেসাস কলেজের ফেলোশিপ থেকে পদত্যাগ করেন। নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি জানিয়েছিলেন, চলমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং নিজের, পরিবারের ও সহকর্মীদের কথা বিবেচনা করেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে পদত্যাগকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বীকৃতি হিসেবে না দেখার অনুরোধ করেছিলেন আরডে। তিনি তাঁর একাডেমিক কাজের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করলেও নিজেকে মিথ্যাবাদী বা প্রতারক হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন।
জেসন আরডের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রথমে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সামনে আসে। পরে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টাইমস’ ও ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ তাঁর একাডেমিক কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ নাথান কফনাসও গত জুলাইয়ে আরডের ডক্টরেট গবেষণাপত্রের বিভিন্ন অংশ অন্য উৎস থেকে হুবহু নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। কফনাস নিজেকে ‘জাতিগত বাস্তববাদী’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর সঙ্গে একটি গবেষণা চুক্তি বাতিল করেছিল।
এদিকে জেসন আরডের পরিবার তাঁর বিরুদ্ধে চলা সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণকে ‘হয়রানির প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগ ও প্রচারণা তাঁর জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। পরিবার জেসনকে কোমল স্বভাবের একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যিনি সবসময় অন্যদের মধ্যে ভালো কিছু দেখার চেষ্টা করতেন।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে জেসন আরডের মৃত্যুকে আকস্মিক বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্দেহজনক পরিস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের সেন্ট্রাল সাউথ কমান্ড ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েলও আরডের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এ কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পদত্যাগের আগে এক বিবৃতিতে জেসন আরডে জানিয়েছিলেন, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় পেশাগত অর্জন। কিন্তু নিয়োগের পর থেকেই তাঁকে প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও পাশে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরডে বলেছিলেন, নিজের সুস্থতা, পরিবার এবং কাছের মানুষদের কথা বিবেচনা করেই তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছিলেন, পদত্যাগ তাঁর কাজের সমাপ্তি নয়। কিছু সময় নিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে ভবিষ্যতে আবার কাজে ফেরার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাডেমিক অভিযোগের তদন্ত কোন পর্যায়ে ছিল এবং মৃত্যুর সঙ্গে সাম্প্রতিক বিতর্কের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au