বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন স্মিথ
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডে ইংল্যান্ডের জো…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের দেওয়া ‘ভ্রমণ না করার পরামর্শ’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতার তালিকায় থাকা দেশগুলো থেকে অবিলম্বে অভিবাসন বন্ধের দাবি জানিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন। দলটির দাবি, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, সশস্ত্র সংঘাত, সহিংস অপরাধ, সামাজিক অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ার মতো গুরুতর ঝুঁকির কারণে যেসব দেশে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের ভ্রমণ না করতে সতর্ক করা হচ্ছে, সেসব দেশ থেকে সাধারণ অভিবাসনও সাময়িকভাবে বন্ধ করা উচিত।
ওয়ান নেশনের সিনেটর পলিন হ্যানসন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ ও জীবনযাত্রার প্রতি বৈরী অঞ্চলগুলো থেকে দেশের নিরাপত্তার জন্য তৈরি হওয়া বাস্তব ঝুঁকি আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার হুমকির মাত্রা এখনো ‘সম্ভাব্য’ পর্যায়ে রয়েছে। এর অর্থ, অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা নিরাপত্তা সংস্থা এএসআইওর মূল্যায়ন অনুযায়ী আগামী ১২ মাসে দেশে সন্ত্রাসী হামলা বা হামলার পরিকল্পনা হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশের বেশি।”
হ্যানসনের ভাষ্য, কোনো দেশের চরম নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসী ঝুঁকির কারণে যদি অস্ট্রেলিয়া সরকার নিজ দেশের নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়, তাহলে একই দেশের নাগরিকদের স্বাভাবিক নিয়মে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
বর্তমানে আফগানিস্তান, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, হাইতি, ইরান, ইরাক, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ কয়েকটি দেশকে অস্ট্রেলিয়া সরকার ‘ভ্রমণ না করার’ সতর্কতার আওতায় রেখেছে।
পলিন হ্যানসন বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তার মূল্য দিয়ে বিশ্বের সমস্যাগুলো এখানে নিয়ে আসতে আমি আগ্রহী নই। আইএসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিরিয়া ও ইরাকে যাওয়া অস্ট্রেলীয় নারীদের এবং বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার ইতোমধ্যে যে নীতি নিয়েছে, তাতে নতুন করে আসা ব্যক্তিদের যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে অস্ট্রেলীয়দের আস্থা নেই।”
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের পুরো অঞ্চলকে সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, নির্বিচারে আটক, সশস্ত্র সংঘাত এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ভেঙে পড়ার মতো ঝুঁকির কারণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতার আওতায় রেখে একই পরিস্থিতিকে অভিবাসন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ওয়ান নেশন।ছবিঃ সংগৃহীত
ওয়ান নেশনের দাবি, কোনো দেশের পুরো অঞ্চল যদি ‘ভ্রমণ না করার’ তালিকায় থাকে, তাহলে ওই দেশ থেকে নতুন করে সাধারণ অভিবাসন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা উচিত। আর কোনো দেশের বড় অংশ একই সতর্কতার আওতায় থাকলে, সেখান থেকে আসা প্রতিটি অভিবাসন আবেদনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই করা প্রয়োজন।
হ্যানসন অস্ট্রেলিয়া সরকারকে নিজেদের বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলোর দেওয়া নিরাপত্তা সতর্কতার ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যদি অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের জন্য কোনো দেশে ভ্রমণকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে, তাহলে অভিবাসন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একই সতর্কতা কেন প্রযোজ্য হবে না।
ওয়ান নেশন আরও বলেছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন ‘ভ্রমণ না করার’ তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য নতুন করে বিদেশ থেকে আবেদন করা সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এর মধ্যে শরণার্থী ও মানবিক ভিসাও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
হ্যানসন বলেন, “শরণার্থী ভিসার ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম রাখা উচিত নয়। ভবিষ্যতে ‘ভ্রমণ না করার’ তালিকাভুক্ত কোনো দেশ থেকে শরণার্থী বা মানবিক ভিসার আবেদন কেবল তখনই বিবেচনা করা উচিত, যখন সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করতে পারবে যে আবেদনকারীর পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং তিনি অস্ট্রেলীয়দের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেন না।”
তিনি বলেন, অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ‘ভ্রমণ না করার’ তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে অভিবাসন বন্ধ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই চালু করলে অস্ট্রেলীয়দের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au