মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে সম্ভাব্য প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতির মধ্যেই ছয়জন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গেছেন। ১৫ আগস্ট তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হন। তবে তাদের এই সফরের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিএফআইয়ের ছয় সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কর্নেল মাগফুজ-উল-বারী। তার সঙ্গে রয়েছেন উইং কমান্ডার ইমরুল কায়েস, মোহিউদ্দিন মোহাম্মদ আসিফ, স্কোয়াড্রন লিডার রায়হান মোহাম্মদ চৌধুরী, মুরাদ হোসেন তুষার এবং খন্দকার আরিফুল ইসলাম।
ডিজিএফআই কর্মকর্তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ ফ্লাইটে যাত্রা করেন। ব্যাংকক হয়ে তাদের ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তাদের সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, ইসলামাবাদে তারা পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
ডিজিএফআইয়ের এই সফরের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কারণে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে তার ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ছয় কর্মকর্তার পাকিস্তান সফর নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী পাকিস্তান সফর করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক মাস পর তিনি ইসলামাবাদ সফরে যান।
মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী ১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছান। এর কিছুদিন আগে মার্চে তিনি নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন। ব্রিগেডিয়ার থেকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতির পরপরই তিনি ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নয়াদিল্লিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। ১ মার্চ তিনি ভারত সফরে যান এবং সেখানে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এরপর এপ্রিলের পাকিস্তান সফরেও তিনি থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ ফ্লাইটে ব্যাংকক হয়ে ইসলামাবাদ যান। ওই সফরে তার সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের আরও তিন কর্মকর্তা ছিলেন।
ইসলামাবাদ সফরে মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কায়সার রশিদ চৌধুরীর পাকিস্তান সফর নয়াদিল্লিতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে ভারতীয় প্রশাসনের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ।
এর আগে মার্চে কায়সার রশিদ চৌধুরীর নয়াদিল্লি সফরটি দুই দিনের ছিল। সেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
তবে ওই সফরের সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ডিজিএফআইয়ের ছয় কর্মকর্তার ইসলামাবাদ যাওয়া নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে এপ্রিলের ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পাকিস্তান সফরের কয়েক মাসের মধ্যে একই দেশে আবারও একটি প্রতিনিধি দলের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই সফরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তারা ইসলামাবাদে কার সঙ্গে বৈঠক করবেন বা তাদের আলোচনার বিষয় কী হবে, সে বিষয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।