তারেক রহমানের দিল্লি সফর আপাতত হচ্ছে না, ‘অনুকূল পরিবেশ’ চায় ঢাকা
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আপাতত হচ্ছে না। সফরের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চললেও দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের কিছু অমীমাংসিত বিষয়…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার বাধ্যতামূলক অবসরকালীন সঞ্চয় বা ‘সুপারঅ্যানুয়েশন’ ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন ওয়ান নেশন দলের নেতা পলিন হ্যানসন। তিনি বলেছেন, অবসরের আগেই প্রয়োজনের সময় মানুষকে নিজেদের জমা অর্থের একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত।
হ্যানসনের মতে, অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সুপারঅ্যানুয়েশন ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার এই সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘদিনের জন্য আটকে রাখা বাস্তবসম্মত নয়।
রোববার নিউজ২৪কে হ্যানসন বলেন, অনেক অস্ট্রেলিয়ান বর্তমানে আর্থিক সংকটে রয়েছেন এবং তাদের পক্ষে বাড়ির ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “অনেক অস্ট্রেলিয়ান এখন কঠিন সময় পার করছেন। তারা মর্টগেজ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আমার মনে হয়, তাদের নিজেদের অর্থ এখনই ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় সামলাতে তারা সেই অর্থ কাজে লাগাতে পারেন।”
হ্যানসনের ভাষায়, “এটা তাদেরই টাকা। বেতনের একটি অংশের পরিবর্তে তারা এই অর্থ জমিয়েছেন। তাই অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ এখন সেই অর্থের প্রয়োজন অনুভব করছেন।”
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার সব নিয়োগকর্তাকে কর্মীদের উপার্জনের ন্যূনতম একটি অংশ সুপারঅ্যানুয়েশন তহবিলে জমা দিতে হয়। বর্তমানে এই হার ১২ শতাংশ।
তবে সাধারণ নিয়মে কর্মীরা ৬০ বছর বয়সে পৌঁছে অবসর নেওয়ার পর এই অর্থ তুলতে পারেন। ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালে অবসর না নিলেও সুপারঅ্যানুয়েশনের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়।
হ্যানসনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারার জিম চালমার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ওয়ান নেশন বাধ্যতামূলক সুপারঅ্যানুয়েশন ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চায়, যেমনটি লিবারেল ও ন্যাশনাল পার্টিও চায়।
চালমার্স বলেন, লেবার সরকার সবসময় এই ব্যবস্থা রক্ষা করবে। তার দাবি, বাধ্যতামূলক সুপার ব্যবস্থা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তারা অস্ট্রেলিয়ার কর্মীদের অবসরকালীন আয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
হ্যানসনের মন্তব্যের আগে একই ধরনের সমালোচনা করেছিলেন লিবারেল পার্টির সিনেটর অ্যান্ড্রু ব্র্যাগ।
গত সপ্তাহে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া এক বক্তব্যে ব্র্যাগ বাধ্যতামূলক সুপারঅ্যানুয়েশনকে একটি “অদ্ভুত কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী পরীক্ষা” হিসেবে উল্লেখ করেন।

হ্যানসনের মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রেজারার জিম চালমার্স। — অ্যালেক্স এলিংহাউসেন
তার যুক্তি, কর্মীদের বেতনের ১২ শতাংশ এমন একটি সুপার ফান্ড ব্যবস্থাপকের কাছে জমা দেওয়া হচ্ছে, যার সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগতভাবে কোনো সম্পর্কও নেই। তার মতে, এটি ব্যক্তির আর্থিক স্বাধীনতা সীমিত করে।
বৃহস্পতিবার এবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি ব্র্যাগ।
তিনি দাবি করেন, ফেডারেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় জননীতি ব্যর্থতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা সরকারের বাজেটে তেমন কোনো সহায়তা করেনি এবং বহু মানুষকে সরকারি পেনশনের ওপর নির্ভরতা থেকেও বের করে আনতে পারেনি।
ব্র্যাগ আরও অভিযোগ করেন, এই ব্যবস্থা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নগুলোর জন্য বিপুল অর্থের একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে, যেখান থেকে তারা সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
লেবার পার্টির সাম্প্রতিক সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্যও সুপারঅ্যানুয়েশন চালুর কথা বলা হচ্ছে। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে হয়তো “বিড়াল ও কুকুরের জন্যও সুপার” চালু করা হবে।
সূত্র-নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au