আরব দেশগুলোতে কি প্রভাব হারাচ্ছেন ট্রাম্প
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চললেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধানের পথ না বের হওয়ায় মার্কিন মিত্র হিসেবে…
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সামরিক সদস্যদের নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি। তিনি ঘোষণা করেছেন, কোনো ‘আগ্রাসী’ মার্কিন সামরিক সদস্যকে আটক বা হত্যা করতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। নারী মার্কিন সেনা সদস্যের ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৬০ হাজার ডলার করা হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেন, কোনো ইরানি নাগরিক যদি একজন মার্কিন সেনা সদস্যকে আটক বা হত্যা করতে সক্ষম হন, তাহলে তাকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। মার্কিন নারী সেনা সদস্যের ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ হবে ৬০ হাজার ডলার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ স্থগিত থাকলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে।
ইরানি সেনাপ্রধান হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই নৌপথকে ঘিরে অঞ্চলে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী দেশটির সামরিক বাহিনী নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রক্ষা করবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এটি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। তবে যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জলপথটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একাধিকবার কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
ইরানি সেনাপ্রধানের সর্বশেষ বক্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার কথা জানিয়েছিলেন। ফলে নতুন করে মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকের জন্য পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৈরিতাকে আরও তীব্র করতে পারে।
তবে ইরানি সেনাপ্রধানের ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে বা পুরস্কার দেওয়ার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সুত্রঃওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au