মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: সিলেটের গোয়াইনঘাটে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত কলিম উল্লাহ (৫০) উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দিঘিরপার…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশক ও ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবারের ভূমিকম্পে ১৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অনেকের হাড় ভেঙেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিজেদের উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন অথবা একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবি।
অনেক বাসিন্দা ধসে পড়া বাড়ির বাইরে ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী তাঁবুর নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালের বাইরে স্থাপিত অস্থায়ী তাঁবুতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আফটারশকে আতঙ্ক, ব্যাহত উদ্ধারকাজ
ভূমিকম্পের পর আফটারশকের আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাউমেরে শহরের একটি বন্ধ বন্দরে ভূমিকম্পে ধসে পড়া ছাদ ও দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকে প্রায় এক হাজার আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
শত শত মানুষ একটি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন, যেটিকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে সেখানে বাসিন্দাদের গরম পানীয় নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
শিশুদের জন্যও নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা করছেন অভিভাবকেরা। কয়েকজন মা তাঁবুর কাঠামোর সঙ্গে কাপড় ঝুলিয়ে অস্থায়ী দোলনা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে কিছু শিশু স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবল খেলছিল।
স্থানীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান মার্গারেথা মোভালদেস দা মাগা বাপা বলেন, এই ভূমিকম্প ১৯৯২ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই ভূমিকম্পের শিকার হই। কিন্তু এবারের ভূমিকম্প সত্যিই ১৯৯২ সালের সেই ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।”
ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ
উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা সুরিয়ামান বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাংগারাই, ইস্ট মাংগারাই ও নাগেকেও এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তবে ভূমিধস ও বারবার আফটারশক উদ্ধারকাজে বড় বাধা তৈরি করছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ওই অঞ্চলে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়া।
বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রায় পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন মেরামতের কাজ এখনো চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা পারুসাহান লিস্ত্রিক নেগারা।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় সরকার। এতে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে দ্রুত সরকারি সম্পদ ও অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ দ্বিকোরিতা কার্নাওয়াতি জানিয়েছেন, ‘ফ্লোরেস ব্যাক-আর্ক থ্রাস্ট ফল্ট’ নামের একটি সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্টের কারণে এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালেও একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়া কেন এত ভূমিকম্পপ্রবণ?
প্রায় ২৯ কোটি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের ওপর অবস্থিত। এই এলাকায় একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে। ফলে দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়।
শনিবারের ভূমিকম্পটি ২০২২ সালে পশ্চিম জাভায় কয়েক শ মানুষের প্রাণহানির পর ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র-রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au