মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামল নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কিছু প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। আর সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদের আওতায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. ইউনূসের শাসনামলে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অন্তত কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ারবহির্ভূত উদ্যোগ, গণভোটের অধ্যাদেশ জারি, শপথ ভঙ্গ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ।
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদে অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান বাতিল, স্থগিত বা এর প্রতি নাগরিকের আস্থা নষ্ট করার উদ্যোগকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি এই আদেশ জারি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংবিধানে ব্যাপক সংস্কার এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ৮৪টির বেশি প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন এবং সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সংসদের অনুমোদন ছাড়াই এমন আদেশ জারি করা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন ব্যক্তি এই আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকও এটিকে সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এই আদেশে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হলো, সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও তিনি গণভোটের অধ্যাদেশ জারি এবং গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংবিধানে পরিবর্তন বা নতুন কোনো ব্যবস্থা যুক্ত করার এই উদ্যোগও সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ড. ইউনূস সংবিধান রক্ষা, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী দেশের সব মানুষের প্রতি যথাযথ আচরণ করার শপথ নিয়েছিলেন।
তবে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সরকারের সময়ে পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শপথের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের বিভিন্ন মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বিনা বিচারে আটক রাখা হয়। এর ফলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য না করার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ড. ইউনূসের সরকারের সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রতিবেদনের উল্লেখ করে এসব ঘটনার জন্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বাউল ও মাজারে হামলার ঘটনাগুলোকেও প্রতিবেদনে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ড. ইউনূসের আমলে সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে কর্মস্থলে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে থাকা পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এবং আদালতের আদেশ ছাড়া সম্পত্তি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব আটকের অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন
সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপনের বিধান রয়েছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ড্রোন কারখানা স্থাপন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে নানা চুক্তি বা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার, চীন থেকে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব চুক্তির ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি অনুমোদন, গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা দেওয়ার অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ এবং ব্যাংকে সরকারের শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব সুবিধা ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বার্থের সংঘাতের আওতায় পড়ে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৬৬, ১৬৭ ও ১৬৮ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন অমান্য করা, ভুল নথি তৈরি করা, বেআইনিভাবে বাণিজ্যে জড়ানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড এসব আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থপাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাকে খালাস দেন। এর আগে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তারা খালাস পান। তার বিরুদ্ধে থাকা আয়কর ফাঁকির মামলাও বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে এসব ঘটনার ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা পদে থাকার সময় ড. ইউনূস বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কি না, তা তদন্তের বিষয় হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২২৮ ধারা এবং আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩-এর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় কোনো সরকারি কর্মচারী বা জনসেবক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা অন্য কারও জন্য বেআইনি আর্থিক সুবিধা বা মূল্যবান সম্পদ অর্জন করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কর সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন, জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার অনুমোদনের মতো বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
ড. ইউনূস ও তার স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে শিশুদের হাম টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য অবহেলার অভিযোগও প্রতিবেদনে আনা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কারও বেপরোয়া বা অবহেলামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে মৃত্যু ঘটলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং মৃত্যুর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণ পর্যালোচনা করে দায় নির্ধারণের জন্য একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সবগুলোই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবির ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এসব অভিযোগের আইনি অবস্থান নির্ধারণ করবে।