দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা ১০ দিনের বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এ নির্দেশ দেন। মহড়ার ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশ না নেওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মহড়াগুলো ব্যয়বহুল হওয়ার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘অনুপযুক্ত ও বৈরী’ বার্তা পাঠাচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, মহড়া পুরোপুরি বাতিল করার মতো সময় আর নেই। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব মহড়ায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে সন্তুষ্ট নন। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথাও উল্লেখ করেন।
বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে পরিচিত এই যৌথ সামরিক মহড়া ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সামরিক সদস্য অংশ নেওয়ার কথা। উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের মহড়ায় ড্রোন মোকাবিলা, জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত করার পরিস্থিতি এবং সাইবার হামলা মোকাবিলার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, সোমবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মহড়া শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। তবে ট্রাম্পের নির্দেশের পর মহড়ার পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে পরিবর্তিত হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
স্টিমসন সেন্টারের ‘৩৮ নর্থ’ কর্মসূচির প্রধান জেনি টাউন বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতেই ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে সিদ্ধান্তটি যেভাবে হঠাৎ নেওয়া হয়েছে, তাতে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ বা কমানোর পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি এসব মহড়াকে ব্যয়বহুল এবং উসকানিমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার ব্যয় এবং তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়েও সিউলের সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধ রয়েছে।
এদিকে যৌথ সামরিক মহড়াকে ঘিরে উত্তর কোরিয়া বরাবরই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এসব মহড়া তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি।
মহড়া শুরুর আগে গত বুধবার উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর ছয় দিন আগেও দেশটি একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক বাহিনী দুটি উৎক্ষেপণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প ও কিম জং উনের সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরে ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। ট্রাম্প একসময় কিমকে কটাক্ষ করে ‘লিটল রকেট ম্যান’ বলেছিলেন এবং উত্তর কোরিয়াকে কঠোর সামরিক হুমকিও দিয়েছিলেন। পরে দুই নেতার মধ্যে তিনটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং ট্রাম্প কিমের সঙ্গে চিঠি বিনিময়ের প্রসঙ্গে তাদের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ বলে বর্ণনা করেন।
তবে ওই বৈঠক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সুত্রঃ রয়টার্স