এইচএসসিতে সাড়ে ১৩ লাখ আসন ফাঁকা, উচ্চশিক্ষায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ?
দেশের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য থাকা প্রায় ২৫ লাখ আসনের মধ্যে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের…
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় বাড়ি ফেরার পথে কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে নাগাদি রেলগেটের কাছে এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয় এক পঞ্চায়েতপ্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, কারাবন্দী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জব্বার শেখের পরিকল্পনা ও নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ জব্বার শেখকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ নিতেই প্রতিপক্ষ কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফাতেমা বিবি। তিনি কারাবন্দী জব্বার শেখের স্ত্রী। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
রাজ্য সচিবালয়ে রোববার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন জড়িত। তিনি বলেন, পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, জব্বার শেখ বর্তমানে কারাগারে থাকলেও সেখান থেকেই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বিবিও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাতে বেথুয়াডহরী থেকে ফেরার পথে আনিসুর রহমানের গাড়ি নাগাদি রেলগেটের কাছে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত গাড়িটির গতিরোধ করে। এরপর তারা গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। পরে আনিসুর রহমানকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে মারধর ও কুপিয়ে জখম করার পর গুলি করা হয়। হামলায় তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানও গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে দ্রুত উদ্ধার করে বেথুয়াডহরী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে।
জব্বার শেখের গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ হিসেবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে হামলার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানের হত্যার প্রতিবাদে রোববার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে কংগ্রেস। কলকাতার টালিগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকা থেকেও একটি বড় প্রতিবাদ মিছিল বের হয়।
মিছিল থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au