এইচএসসিতে সাড়ে ১৩ লাখ আসন ফাঁকা, উচ্চশিক্ষায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ?
দেশের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য থাকা প্রায় ২৫ লাখ আসনের মধ্যে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের…
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন পুণ্যার্থী নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে রামপুরহাট শহরের কাছে তারাপীঠ থানার অদূরে পুকুরপাড় এলাকায় ‘বিদেশিনী’ হোটেলে এ আগুন লাগে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হোটেলের নিচের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অতিথিরা।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি ফেটে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে আগুন দ্রুত হোটেলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। নিচতলার একটি বড় অংশ আগুনে পুড়ে যায় এবং ঘন ধোঁয়া উপরের তলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আবাসিক ওপরের তলায় আটকা পড়েন।
আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই নিজেদের কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিচতলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে কেউ কেউ ওপরের তলা থেকে বিভিন্ন জিনিস নিচে ফেলতে শুরু করেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ। পরে দমকল বাহিনীর একাধিক দল সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ ও অংশে তল্লাশি চালিয়ে আটকে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করা হয়।
হোটেল মালিক কল্যাণ পাল জানান, আগুন লাগার পর রাতপাহারার কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারজাতীয় দাহ্য উপকরণে আগুন ধরে যাওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে যাওয়ার কারণে আবাসিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিবারের সঙ্গে ওই হোটেলে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা তপনজ্যোতি মণ্ডল। তিনি জানান, আগুন দেখতে পেয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। কক্ষে জানালা না থাকায় তারা দীর্ঘ সময় ভেতরে আটকে ছিলেন। পরে শৌচাগারের ওপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার মা ও বোনও আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় হোটেলে আটকে থাকা বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রাণহানির ঘটনায় তারাপীঠে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রাবণ মাস উপলক্ষে ওই সময় হোটেলটিতে মালদহ, আলিপুরদুয়ারসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা অবস্থান করছিলেন।
নিহত ছয়জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃ আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au