ককরোচদের সংসদ অভিযানে ‘বাড়াবাড়ি হয়নি’, সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি পুলিশের দাবি
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: দিল্লির ছাত্র-যুবদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি বলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায়…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু নতুন করে সামনে এসেছে। ঢাকা সফরের আগে নয়াদিল্লির কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান চাইছে। তবে শেখ হাসিনার পক্ষের যুক্তি হলো, তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি রাজনৈতিক চাপ বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দর-কষাকষির অংশ না করে প্রচলিত আইন, প্রমাণ এবং ন্যায়বিচারের নীতির ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিত।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা চাওয়া হলেও, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কোনো ব্যক্তির প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। তবে দ্বিপক্ষীয় সফরের সময় এ বিষয়ে ভারতের একটি স্পষ্ট অবস্থান থাকা এবং যৌথ বিবৃতিতে তার প্রতিফলন থাকা ঢাকার প্রত্যাশা।
তবে ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের মাধ্যমে হতে পারে। শেখ হাসিনার পক্ষের অবস্থান থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রত্যর্পণের মতো গুরুতর সিদ্ধান্তে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনি নথি এবং ন্যায়বিচারের সুযোগ যথাযথভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রোববার জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সরকার নয়, আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফলে বিষয়টি সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম শহীদুল করিম বলেছিলেন, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের কারণে তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রক্রিয়া ‘বিঘ্নিত’ হয়েছে।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তাঁর বিরুদ্ধে পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় এবং তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে শেখ হাসিনার পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর প্রত্যর্পণ চাওয়ার পাশাপাশি অভিযোগের প্রমাণ, বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কতটা নিশ্চিত হয়েছে, সেসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে করা অভিযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
ঢাকার পক্ষ থেকে শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়েও ভারতের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লির একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ভারত প্রথমে তারেক রহমানকে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পরে তিনি সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আলাদা আমন্ত্রণ জানায়। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।
ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে ঢাকার বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে বর্তমানে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং কর্মকর্তারা এ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মকর্তা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সফরের জন্য সময় খুব কম থাকায় এই মুহূর্তে সফরের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিষয়ও নয়াদিল্লির কাছে তুলেছে ঢাকা। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি নিরাপত্তা ও বিচারসংক্রান্ত বিষয়ও দুই দেশের আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।
তবে শেখ হাসিনার পক্ষের অবস্থান থেকে মূল প্রশ্নটি হলো, তাঁর প্রত্যর্পণকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ কিংবা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের শর্ত হিসেবে দেখা হবে কি না। তাঁর পক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের মতো সিদ্ধান্ত হলে তা রাজনৈতিক চাপের পরিবর্তে স্বাধীন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।
দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও কোনো ব্যক্তির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা আইনি পরিণতিকে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হলে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার মতো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাঁর আইনি অধিকার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এখন তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর কবে হবে এবং যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হবে, সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয়, সেটিও পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সুত্রঃ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au