বিশ্ব

বিদেশি শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা যাচাই করবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়

  • 3:33 pm - August 18, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৩০ বার
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দপ্তর দেশটির ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়েছে।ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের শিক্ষা, অর্থায়ন ও গবেষণাসংক্রান্ত সম্পর্ক পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির যুদ্ধ দপ্তর। জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি, গবেষণা প্রযুক্তির অননুমোদিত স্থানান্তর, মেধাস্বত্ব চুরি এবং সংবেদনশীল গবেষণার অপব্যবহার ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধ দপ্তর জানিয়েছে, ২০১৯ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের ১২৮৬ ধারায় চিহ্নিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্রিয় সম্পর্ক ও সহযোগিতাও এই পর্যালোচনার আওতায় থাকবে। নতুন নামে পরিচালিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলোর সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোকেও এ তালিকার মধ্যে রাখা হয়েছে।

গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক যুদ্ধ দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারির কার্যালয়ের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত গবেষণা থেকে অনুমতি ছাড়া প্রযুক্তি বিদেশে চলে যাওয়া, মেধাস্বত্ব হাতছাড়া হওয়া এবং বিদেশি প্রতিপক্ষের হাতে গবেষণার অপব্যবহার ঠেকানোই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক যুদ্ধ দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে যুক্ত, তাদের গবেষণার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাধ্যতামূলক এই পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। বিদেশি সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোথাও দুর্বলতা বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি রয়েছে কি না, সেটিও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে।

নোটিশ পাওয়া ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিহ্নিত সব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সহযোগিতার বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে সংবেদনশীল বা রপ্তানি-নিয়ন্ত্রিত গবেষণা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে কি না, তাও যাচাই করতে হবে।

পর্যালোচনায় কোনো সহযোগিতাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তা বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকি কমানোর জন্য কঠোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে তাদের পর্যালোচনার ফলাফল এবং এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য সরাসরি যুদ্ধ দপ্তরে জমা দিতে হবে।

যুদ্ধ দপ্তর আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণা তহবিল পাওয়ার যোগ্যতা ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এসব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সরকারি গবেষণা তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক যুদ্ধ দপ্তরের সহকারী সচিব জোসেফ জুয়েল বলেন, যুদ্ধ দপ্তরের বিভিন্ন গবেষণা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই বিদেশি অপব্যবহার থেকে এসব গবেষণায় মার্কিন সরকারের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখা দপ্তরের দায়িত্ব।

যুদ্ধ দপ্তরের মতে, এই পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষণা খাতে নতুন ধরনের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগেভাগেই ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিপক্ষের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কার্যকরভাবে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

দপ্তর মনে করে, গবেষণার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা গেলে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বও ধরে রাখা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির সঙ্গেও কাজ করছে যুদ্ধ দপ্তর।

এর মধ্যে রয়েছে হাউস ও সিনেটের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক কমিটি, হাউস ও সিনেটের বরাদ্দবিষয়ক কমিটি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টিবিষয়ক হাউসের বিশেষ কমিটি। এসব কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি নিরাপদ গবেষণা পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, প্রযুক্তি ও গবেষণার ফলাফল বিদেশি অপব্যবহার থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

সব মিলিয়ে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মার্কিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা এখন আরও কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আসছে। বিশেষ করে যেসব সহযোগিতার সঙ্গে সংবেদনশীল গবেষণা, প্রযুক্তি ও সরকারি অর্থায়ন যুক্ত, সেগুলোর ওপর বাড়তি নজর দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দপ্তর।

 

এই শাখার আরও খবর

বাংলাদেশে যাওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ায় মিলছে ডেঙ্গুর টিকা

মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়েছে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা। বিশেষ করে বিদেশভ্রমণকারীদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশটির স্বাস্থ্য…

দিল্লিতে মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক, আলোচনায় তারেক রহমানের ভারত সফর

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী অনির্ধারিত সফরে দিল্লি গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১টার দিকে এ বৈঠক…

উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করে নোবেল পেলেন হালজেন

জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন এক ধারার ভিত্তি তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার…

রংপুরের চার খুন: অমীমাংসিত প্রশ্ন

একটি তালাবদ্ধ বাড়ি। কয়েক দিন ধরে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। এক পর্যায়ে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পুলিশ এসে তালা ভাঙার পর…

পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ‘প্রভাবশালী মহলের’ মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর…

দেশজুড়ে বেড়েছে ধর্ষণ-নির্যাতন, ২০ মাসে ৬৪৩ শিশুর মৃত্যু

শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে শিশু অধিকার দিবস। অথচ দেশে শিশুদের ওপর ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au