লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে'।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে আনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সহযোগিতা করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরা ১৭৪ বাংলাদেশির অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় তারা মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে বিপজ্জনক যাত্রায় যুক্ত হন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন আটক থাকার পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় তাদের অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে লিবিয়ায় তাদের কাটানো সময়ের নানা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অন্যদেরও জানাতে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতেই তাদের এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার অনুরোধ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে দেশে ফেরার পর প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আরও বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি লিবিয়ায় গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জরুরি।