আদালতে কোনও মন্তব্য করেননি ওয়ার্নার।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সিডনির একটি আদালত তাকে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করার পাশাপাশি তার গাড়িতে অ্যালকোহল ইন্টারলক ডিভাইস বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই যন্ত্র চালকের শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি শনাক্ত করলে গাড়ির ইঞ্জিন চালু হতে বাধা দেবে।
মঙ্গলবার সিডনির ওয়েভারলি লোকাল কোর্টে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতে ডেভিড ওয়ার্নার নিজে কোনো মন্তব্য করেননি।
৩৯ বছর বয়সী ওয়ার্নার গত এপ্রিল মাসে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। ইস্টারের ছুটির সপ্তাহান্তে সিডনির পূর্বাঞ্চলে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
ফেরার পথে পুলিশ পরিচালিত একটি নিঃশ্বাস পরীক্ষার জায়গা দেখতে পান ওয়ার্নার। তখন তিনি গাড়ি থামান। শুনানিতে উঠে আসে, পুলিশের ওই পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার পর ওয়ার্নার গাড়িতে থাকা এক নারী যাত্রীর সঙ্গে আসন বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা তাকে আইনি ব্যবস্থা থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
পুলিশের পরীক্ষায় ওয়ার্নারের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনত অনুমোদিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া যায়। ফলে তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক ক্লেয়ার ফারনান বলেন, ভবিষ্যতে ওয়ার্নার একই ধরনের অপরাধ আবার করবেন, এমন আশঙ্কা তিনি করছেন না। তবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ভয়াবহতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, নিউ সাউথ ওয়েলসে এখনো অনেক সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে এ ধরনের অপরাধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গাড়িতে শিশু থাকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন বিচারক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফেরার সময় ওয়ার্নার গাড়িতে সন্তানদের রেখেছিলেন। ফলে তার এই কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি ও গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে আদালত মনে করেছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন ওয়ার্নারের গাড়িতে অ্যালকোহল ইন্টারলক ডিভাইস স্থাপন করতে হবে। চালক গাড়ি চালু করার আগে এই যন্ত্রে পরীক্ষা দিতে হবে। শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি শনাক্ত হলে গাড়িটি চালু হবে না।
আদালতে ওয়ার্নারের আইনজীবী আওয়াইস আহমাদ তার মক্কেলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ঘটনার ব্যাপক গণমাধ্যম প্রচারের কারণে ওয়ার্নার ইতোমধ্যেই যথেষ্ট ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই ঘটনার কারণে তার বাণিজ্যিক সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে ওয়ার্নারকে দোষী সাব্যস্ত না করার আবেদন জানান আইনজীবী।
তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি এবং ওয়ার্নারকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা ও অ্যালকোহল ইন্টারলক ডিভাইস ব্যবহারের নির্দেশ দেয়।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ওয়ার্নারকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তবে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা তাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। তার ব্যবস্থাপনা দলের কাছেও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন ফরম্যাটেই সফলতা পাওয়া ডেভিড ওয়ার্নারের জন্য আদালতের এই রায় মাঠের বাইরের একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গাড়িতে সন্তানদের উপস্থিতি এবং পুলিশের পরীক্ষার সময় আসন বদলের চেষ্টার বিষয়টি মামলাটিকে আরও আলোচিত করেছে।