ককরোচদের সংসদ অভিযানে ‘বাড়াবাড়ি হয়নি’, সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি পুলিশের দাবি
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: দিল্লির ছাত্র-যুবদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি বলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায়…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তাঁর বর্তমান প্রেসিডেন্সির সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে করছেন বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক। সোমবার শেষ হওয়া জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
চার দিন ধরে পরিচালিত ওই জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের মাত্র ৩৩ শতাংশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে ৬৪ শতাংশ তাঁর কার্যক্রম অনুমোদন করেননি।
চলতি আগস্টের শুরুতে রয়টার্স/ইপসোসের আরেক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ছিল ৩৫ শতাংশ। নতুন জরিপে তা আরও দুই শতাংশ পয়েন্ট কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন অনুমোদন হার দেখা গেল। একই হার ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেও তাঁর প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায় হিসেবে রেকর্ড হয়েছিল।
২০২৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের প্রতি দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষের সমর্থন ছিল। তবে চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।
ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাব শুধু সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে মার্কিন পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যুদ্ধের প্রভাব আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য লড়াই করতে হবে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের।
নির্বাচনী প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পরও তিনি প্রথমদিকে বলেছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতির অবসান হতে পারে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি সে প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না। ইরান সংঘাতের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনে বড় ধরনের বাধা অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়ছে।
জরিপে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে করছেন ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
দলীয় অবস্থান বিবেচনায় নিলে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭১ শতাংশ মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।
অন্যদিকে মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, এই সংঘাত সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কাই বেশি। একই সময়ে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগও ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও কমে গেলে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au