ককরোচদের সংসদ অভিযানে ‘বাড়াবাড়ি হয়নি’, সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি পুলিশের দাবি
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: দিল্লির ছাত্র-যুবদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি বলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায়…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ক্যাথলিক স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। পরে অভিযুক্ত বন্দুকধারী নিজেকেও গুলি করে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হামলাকারীসহ মোট দুজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পশ্চিম মিনদানো অঞ্চলের আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। গত দুই মাসের মধ্যে ফিলিপাইনে এটি দ্বিতীয় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আঞ্চলিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। পরে সে একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে গুলি চালায়। এতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। এরপর হামলাকারী নিজেকেও গুলি করে।
পুলিশের মুখপাত্র শেলা চ্যাং বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তদন্ত চালাচ্ছেন। হামলায় আর কেউ আহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্কুলের করিডরে বন্দুক হাতে এক ব্যক্তিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল। ভিডিওতে বন্দুকধারীকে একটি শ্রেণিকক্ষের দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি চালাতে দেখা যায়।
এরপর আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের চিৎকার করতে করতে স্কুলের ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টও নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।
জাম্বোয়াঙ্গা শহরের মেয়র খাইমার ওলাসো জানান, হামলার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দুকধারী প্রথমে একটি টেবিলে বসে থাকা একজন শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর সে অন্য একটি কক্ষে গিয়ে সেখানে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে।
মেয়র প্রথমদিকে হামলাকারীকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। তবে পরে পাওয়া তথ্যে তাকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হামলাকারীর শ্রেণি নিয়ে প্রাথমিক তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী তথ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষও দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের সন্তানদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত অন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত জুনে মধ্য ফিলিপাইনে বন্দুক হামলায় তিন কিশোর শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছিল।
এর মাত্র এক মাস আগে, গত জুলাইয়ে আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয় দেশজুড়ে সক্রিয় বন্দুকধারীর হামলা মোকাবিলায় পরিচালিত নিরাপত্তা মহড়ায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ছিল। এর পরপরই একই প্রতিষ্ঠানে বন্দুক হামলার ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে বৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রের বড় একটি অবৈধ বাজার রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au