ককরোচদের সংসদ অভিযানে ‘বাড়াবাড়ি হয়নি’, সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি পুলিশের দাবি
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: দিল্লির ছাত্র-যুবদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি বলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায়…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের কয়েকটি কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া ৬৯০ বন্দি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ বন্দির কোনো তথ্যই বর্তমানে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয় ও কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ২০২৪ সালে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে ৬৯০ জন এখনো ধরা পড়েননি। বিশেষ করে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের একটি অংশের কোনো তথ্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।
তিনি বলেন, নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ বন্দির তথ্য কারা অধিদপ্তর এখনো খুঁজে পাচ্ছে না।
কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি বন্দিদের বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে তথ্য তুলে ধরেন কারা মহাপরিদর্শক। তিনি জানান, বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট নয়জন জঙ্গি বন্দি পালিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছয়জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
কারা মহাপরিদর্শক আরও জানান, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত বন্দির চাপের কারণে কারাগারে আবাসন সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জঙ্গি বন্দিদের অন্য বন্দিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, কারা অধিদপ্তরের লক্ষ্য শুধু কারাগার পরিচালনা করা নয়। বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা, দক্ষতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে একটি আধুনিক সংশোধনমূলক সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।
কারাগারে স্বচ্ছতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। তিনি জানান, গত ২৪ জুন থেকে ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে ‘ক্যাশলেস’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে কারাগারের ভেতরের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কারা প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সদর দপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবিলায়ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কারা অধিদপ্তরের জন্য ইতোমধ্যে ১ হাজার ৮৯৯টি নতুন পদ অনুমোদন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১ হাজার ৫০০টি পদের চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক, মেধাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে অনিয়ম ও দালাল চক্রের সুযোগ কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে ভুয়া পরীক্ষার্থী শনাক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে। কারা বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতাকে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে নতুন কারাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার ও আটটি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তর বলছে, পলাতক বন্দিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার, বন্দিদের পুনর্বাসন এবং কারা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au