বিশ্ব

নতুন ধরনের নক্ষত্র আবিষ্কার, নেতৃত্বে ভারতীয় বিজ্ঞানী

  • 4:25 pm - August 20, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৩ বার
মহাকাশে কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রের হদিস দিলেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত।

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: মহাকাশের গভীরে পরতে পরতে রহস্য। তার পর্দা উন্মোচনের জন্য পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপে চোখ পেতে বসে আছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি তেমনই এক রহস্য উন্মোচন করেছে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), সৌজন্যে ভারতীয় বিজ্ঞানী রোহন নায়ডু। মহাকাশে নতুন ধরনের এক নক্ষত্র আবিষ্কার করেছেন তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা। কৃষ্ণগহ্বরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেই সমস্ত নক্ষত্র এত দিন লাল আলোর ধাঁধা হয়ে ছিল পৃথিবীর কাছে। একে বলা হচ্ছে ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’ বা কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র।

হায়দরাবাদের রোহন ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ভারতেই ছিলেন। তার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান। বর্তমানে তিনি হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোনমির সহকারী অধ্যাপক।

এমআইটি-র গবেষকদলের সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর নেতৃত্বেই কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র সংক্রান্ত গবেষণাটি সম্ভব হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জেম্‌স ওয়েব টেলিস্কোপের পাঠানো তথ্য থেকে তাঁরা এই নক্ষত্র খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে নেচার পত্রিকায়, গত ১২ অগস্ট।

মহাকাশের গভীরে লাল আলোর কিছু রেখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা কৌতূহলী। সেই আলোর উৎস কী, আদৌ তা কোনও নক্ষত্র, না অন্য কোনও মহাজাগতিক ঘটনা, কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। অথচ, জেম্‌স ওয়েবের ক্যামেরায় নিয়মিত সেই আলো ধরা পড়ে। রোহনরা গবেষণায় দেখিয়েছেন, এই আলোর উৎস কৃষ্ণগহ্বর।

মহাকাশে যত দূর পর্যন্ত পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীদের ‘চোখ’ যায়, সেই সবচেয়ে দূরবর্তী অংশের কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই সমস্ত ঘটনা আসলে ছদ্মবেশী নক্ষত্রের মতো। কারণ, তাদের থেকে নির্গত আলোর সঙ্গে সুবৃহৎ নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য মিলে যায়। এমআইটি-র গবেষকদলের বক্তব্য, এগুলি আসলে অত্যন্ত ঘন ও উজ্জ্বল গ্যাসে আবৃত এক-একটি কৃষ্ণগহ্বর। তারই নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’।

রোহনদের গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে যে কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্কেত, তার নাম এমওএম-বিএইচ*-১। আকারে তা আমাদের সৌরজগতের সমান। সৌরজগত থেকে তা ১৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি এমন এক সময়ের সঙ্কেত, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল মাত্র ৬৬ কোটি বছর। বর্তমানে মহাবিশ্বের বয়স ১৪০০ কোটি বছর বলে মনে করা হয়।

২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর জেম্‌স ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটিকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল নাসা। মহাশূন্যের নিগূঢ় রহস্যগুলির পর্দা উন্মোচনই এর উদ্দেশ্য। সেই থেকে আদি মহাবিশ্বের অসংখ্য উজ্জ্বল লালচে দাগ এই টেলিস্কোপ খুঁজে পেয়েছে। এত দিনে তার একটি ব্যাখ্যা আমাদের সামনে এল।

প্রাথমিক ভাবে ‘এমওএম-বিএইচ*-১’কে একটি বিশাল নক্ষত্র বলেই মনে করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে এর কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গবেষকদের মতে, যে কোনও সাধারণ নক্ষত্রের উৎপাদিত শক্তির চেয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি গুণ বেশি শক্তি এর মধ্যে থেকে নির্গত হয়। পারমাণবিক ফিউশনের মাধ্যমে এই শক্তি তৈরি হয়। এ ছাড়া, এর আলোর একটি নির্দিষ্ট অংশ হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। সাধারণ নক্ষত্র বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করলে এই ধরনের সঙ্কেত তৈরি হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে ‘এমওএম-বিএইচ*-১’-এর প্রভাব এতটাই বেশি যে, একে সাধারণ নক্ষত্রের আচরণ বলে ব্যাখ্যা করা যায় না। গবেষক দলের মতে, বিপুল পরিমাণ ঘন গ্যাস এই আলো শোষণ করে।

সূত্রগুলি জুড়ে কৃষ্ণগহ্বর তত্ত্বের দিকেই এগিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে ‘এমওএম-বিএইচ*-১’ এমন এক নক্ষত্র, যার কেন্দ্রে একটি কৃষ্ণগহ্বর রয়েছে। পদার্থকে গ্রাস করে তা বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করছে। একে ঘিরে রয়েছে বিশাল একটি গ্যাসীয় আবরণ।

কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে শক্তি আগে সেই ঘন গ্যাসের স্তরের মধ্যে দিয়ে যায়। নক্ষত্রের আলোয় আমরা যে বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই, তার কয়েকটি এ ভাবেই অর্জন করে ‘এমওএম-বিএইচ*-১’। তাই একে কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রের তকমা দেওয়া হয়েছে।

নাসার টেলিস্কোপ দীর্ঘদিন ধরেই আদি মহাবিশ্বে অনেক ছোট ছোট লাল বিন্দু আবিষ্কার করে আসছে। দূরবর্তী মহাকাশে আমাদের জানা কোনও বস্তুর সঙ্গে তা খাপ খায় না। রোহন বলেন, ‘‘প্রত্যেক ছোট লাল বিন্দুই এক-একটি কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র হতে পারে, যা কোনও না কোনও সাধারণ ছায়াপথের মধ্যে অবস্থিত।

‘এমওএম-বিএইচ*-১’-এর বিশেষত্ব হল, এটি তার আশ্রয়দাতা ছায়াপথটিকে সম্পূর্ণ ম্লান করে দিয়েছে। সেই কারণেই আমরা এই ধরনের নক্ষত্রের বিশুদ্ধ আলো দেখতে পাচ্ছি।’’ কৃষ্ণগহ্বর নিয়েই এখনও বিজ্ঞানীদের সমস্ত কৌতূহলের অবসান ঘটেনি। অনেক প্রশ্ন এখনও অধরা রয়ে গিয়েছে। সেই রহস্যের তালিকায় এ বার নতুন সংযোজন রোহনদের এই ব্ল্যাক হোল স্টার।

আগামী দিনে এই বিশেষ ধরনের তারাগুলি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

সূত্র-আনন্দবাজার.কম

এই শাখার আরও খবর

রোহিঙ্গা সংকট পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে: সেনাপ্রধান

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা…

কলকাতার হোটেলে আগুন: ইজারাদার গ্রেপ্তার, আটক ২ কর্মী

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা…

৭০ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে না করায় দুই বছর ধরে তালেবানের কারাগারে কিশোরী

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- আফগানিস্তানে ৭০ বছর বয়সী এক প্রভাবশালী তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় এক কিশোরীকে প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে বন্দি রেখে…

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন…

রাকসুর তহবিলের ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার হিসাব জমা দেননি জিএস আম্মার

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।…

তিন মাসেও কাটেনি জ্বালানি সংকট, সমাধানে ধীরগতি

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: সরকারের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে তিন মাস পার হয়েছে জ্বালানিসংকট মোকাবিলায়। সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au