বিশ্ব

নতুন ধরনের নক্ষত্র আবিষ্কার, নেতৃত্বে ভারতীয় বিজ্ঞানী

  • 4:25 pm - August 20, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৫৮ বার
মহাকাশে কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রের হদিস দিলেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত।

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: মহাকাশের গভীরে পরতে পরতে রহস্য। তার পর্দা উন্মোচনের জন্য পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপে চোখ পেতে বসে আছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি তেমনই এক রহস্য উন্মোচন করেছে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), সৌজন্যে ভারতীয় বিজ্ঞানী রোহন নায়ডু। মহাকাশে নতুন ধরনের এক নক্ষত্র আবিষ্কার করেছেন তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা। কৃষ্ণগহ্বরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেই সমস্ত নক্ষত্র এত দিন লাল আলোর ধাঁধা হয়ে ছিল পৃথিবীর কাছে। একে বলা হচ্ছে ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’ বা কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র।

হায়দরাবাদের রোহন ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ভারতেই ছিলেন। তার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান। বর্তমানে তিনি হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোনমির সহকারী অধ্যাপক।

এমআইটি-র গবেষকদলের সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর নেতৃত্বেই কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র সংক্রান্ত গবেষণাটি সম্ভব হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জেম্‌স ওয়েব টেলিস্কোপের পাঠানো তথ্য থেকে তাঁরা এই নক্ষত্র খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে নেচার পত্রিকায়, গত ১২ অগস্ট।

মহাকাশের গভীরে লাল আলোর কিছু রেখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা কৌতূহলী। সেই আলোর উৎস কী, আদৌ তা কোনও নক্ষত্র, না অন্য কোনও মহাজাগতিক ঘটনা, কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। অথচ, জেম্‌স ওয়েবের ক্যামেরায় নিয়মিত সেই আলো ধরা পড়ে। রোহনরা গবেষণায় দেখিয়েছেন, এই আলোর উৎস কৃষ্ণগহ্বর।

মহাকাশে যত দূর পর্যন্ত পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীদের ‘চোখ’ যায়, সেই সবচেয়ে দূরবর্তী অংশের কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই সমস্ত ঘটনা আসলে ছদ্মবেশী নক্ষত্রের মতো। কারণ, তাদের থেকে নির্গত আলোর সঙ্গে সুবৃহৎ নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য মিলে যায়। এমআইটি-র গবেষকদলের বক্তব্য, এগুলি আসলে অত্যন্ত ঘন ও উজ্জ্বল গ্যাসে আবৃত এক-একটি কৃষ্ণগহ্বর। তারই নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’।

রোহনদের গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে যে কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্কেত, তার নাম এমওএম-বিএইচ*-১। আকারে তা আমাদের সৌরজগতের সমান। সৌরজগত থেকে তা ১৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি এমন এক সময়ের সঙ্কেত, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল মাত্র ৬৬ কোটি বছর। বর্তমানে মহাবিশ্বের বয়স ১৪০০ কোটি বছর বলে মনে করা হয়।

২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর জেম্‌স ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটিকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল নাসা। মহাশূন্যের নিগূঢ় রহস্যগুলির পর্দা উন্মোচনই এর উদ্দেশ্য। সেই থেকে আদি মহাবিশ্বের অসংখ্য উজ্জ্বল লালচে দাগ এই টেলিস্কোপ খুঁজে পেয়েছে। এত দিনে তার একটি ব্যাখ্যা আমাদের সামনে এল।

প্রাথমিক ভাবে ‘এমওএম-বিএইচ*-১’কে একটি বিশাল নক্ষত্র বলেই মনে করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে এর কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গবেষকদের মতে, যে কোনও সাধারণ নক্ষত্রের উৎপাদিত শক্তির চেয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি গুণ বেশি শক্তি এর মধ্যে থেকে নির্গত হয়। পারমাণবিক ফিউশনের মাধ্যমে এই শক্তি তৈরি হয়। এ ছাড়া, এর আলোর একটি নির্দিষ্ট অংশ হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। সাধারণ নক্ষত্র বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করলে এই ধরনের সঙ্কেত তৈরি হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে ‘এমওএম-বিএইচ*-১’-এর প্রভাব এতটাই বেশি যে, একে সাধারণ নক্ষত্রের আচরণ বলে ব্যাখ্যা করা যায় না। গবেষক দলের মতে, বিপুল পরিমাণ ঘন গ্যাস এই আলো শোষণ করে।

সূত্রগুলি জুড়ে কৃষ্ণগহ্বর তত্ত্বের দিকেই এগিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে ‘এমওএম-বিএইচ*-১’ এমন এক নক্ষত্র, যার কেন্দ্রে একটি কৃষ্ণগহ্বর রয়েছে। পদার্থকে গ্রাস করে তা বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করছে। একে ঘিরে রয়েছে বিশাল একটি গ্যাসীয় আবরণ।

কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে শক্তি আগে সেই ঘন গ্যাসের স্তরের মধ্যে দিয়ে যায়। নক্ষত্রের আলোয় আমরা যে বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই, তার কয়েকটি এ ভাবেই অর্জন করে ‘এমওএম-বিএইচ*-১’। তাই একে কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রের তকমা দেওয়া হয়েছে।

নাসার টেলিস্কোপ দীর্ঘদিন ধরেই আদি মহাবিশ্বে অনেক ছোট ছোট লাল বিন্দু আবিষ্কার করে আসছে। দূরবর্তী মহাকাশে আমাদের জানা কোনও বস্তুর সঙ্গে তা খাপ খায় না। রোহন বলেন, ‘‘প্রত্যেক ছোট লাল বিন্দুই এক-একটি কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র হতে পারে, যা কোনও না কোনও সাধারণ ছায়াপথের মধ্যে অবস্থিত।

‘এমওএম-বিএইচ*-১’-এর বিশেষত্ব হল, এটি তার আশ্রয়দাতা ছায়াপথটিকে সম্পূর্ণ ম্লান করে দিয়েছে। সেই কারণেই আমরা এই ধরনের নক্ষত্রের বিশুদ্ধ আলো দেখতে পাচ্ছি।’’ কৃষ্ণগহ্বর নিয়েই এখনও বিজ্ঞানীদের সমস্ত কৌতূহলের অবসান ঘটেনি। অনেক প্রশ্ন এখনও অধরা রয়ে গিয়েছে। সেই রহস্যের তালিকায় এ বার নতুন সংযোজন রোহনদের এই ব্ল্যাক হোল স্টার।

আগামী দিনে এই বিশেষ ধরনের তারাগুলি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

সূত্র-আনন্দবাজার.কম

এই শাখার আরও খবর

অস্ট্রেলিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে বাঁচালেন সাংবাদিক

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে বন্যার পানিতে ডুবে যেতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করেছেন টেলিভিশন সাংবাদিক উইল মারে ও এক পথচারী। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঘটে…

গোলাগুলি ও অবরোধে অচল সাজেক, পর্যটন ব্যবসায় ২০ কোটি টাকা ক্ষতির শঙ্কা

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বাড়িঘর ও…

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পিছিয়ে গেল পিএসজির ম্যাচ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলমান বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও লিওঁর মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি…

দেশে দেশে কেন বিদ্রোহ করছে জেন-জি

বাংলাদেশ ও নেপালের পর ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। এসব আন্দোলন ‘জেন-জি বিক্ষোভ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য…

ফের বিক্ষোভের আশঙ্কায় ফ্রান্সে নিরাপত্তা জোরদার

ফ্রান্সে আবারও বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে দেশটির সরকার। গত শনিবারের সহিংসতা ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, বিভিন্ন শহরে সমাবেশে বিধিনিষেধ…

তাইওয়ান ঘিরে চীনের নৌ তৎপরতা বৃদ্ধি, উদ্বেগে জাপান-ফিলিপাইন

তাইওয়ানকে ঘিরে এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌ তৎপরতা বাড়াতে চীন সামুদ্রিক মিলিশিয়ার নৌযানের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের জাহাজ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে তাইওয়ানের কোস্টগার্ড। তাদের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au