নিখোঁজের পর পুকুর মিলল ৪ কন্যাশিশুর মরদেহ
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুকুরের পানিতে ডুবে চার কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের হিসাব এখনো জমা পড়েনি।
অর্থাৎ, জিএসের নামে উত্তোলন করা অর্থের প্রায় ৭৭ শতাংশের হিসাব এখনো মেলেনি। এসব অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের বিবরণীসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
নথি অনুযায়ী, জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বিভিন্ন সময়ে সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি।
তবে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য উত্তোলন করা ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট বাবদ নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ১৩ এপ্রিল দাপ্তরিক খরচের জন্য নেওয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার কোনো বিল-ভাউচার জমা পড়েনি।
এই তিন ধাপে উত্তোলন করা অর্থের পরিমাণই ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের সময় এটি ছিল তাদের শুরুর দিকের বাজেট। তখন ব্যয়ের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করার বিষয়টি জানা ছিল না। ফলে ৩ লাখ ২ হাজার টাকার হিসাব সমন্বয় করে বিল প্রস্তুত করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।
রাকসু সদস্যদের জন্য উত্তোলন করা ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই অর্থের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের হিসাব না আসায় সেটি জমা দেওয়া হয়নি।
আরেকটি অর্থের হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাকসুর ব্যয়ের নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন কর্মসূচি ও দাপ্তরিক কাজের জন্য তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
তবে জিএসের নামে উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা না পড়ায় ওই অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, যেকোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর কিছু বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঠিক নিয়মে বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, যেকোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই বিল-ভাউচারসহ আর্থিক হিসাব জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর প্রতিটি অধিবেশনে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য কোষাধ্যক্ষকে বলা হয়েছে।
তবে এখনো কেন সব বিল-ভাউচার জমা পড়েনি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও বলেন তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিল-ভাউচার জমা দিতে হবে এবং রাকসুকেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
এদিকে রাকসুর বর্তমান পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি। বকেয়া হিসাবের তালিকায় সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নামে উত্তোলন করা অর্থের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au