রোহিঙ্গা সংকট পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে: সেনাপ্রধান
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- আফগানিস্তানে ৭০ বছর বয়সী এক প্রভাবশালী তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় এক কিশোরীকে প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে বন্দি রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিবি সেদিকা নামের ওই কিশোরীকে বিয়েতে রাজি করাতে কারাগারে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানের বাদঘিস প্রদেশের ওই তালেবান কমান্ডার সেদিকাকে মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর বাবার ঋণের বিষয়টি সামনে এনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন তিনি। তবে সেদিকা ওই বিয়েতে রাজি হননি।
পরে ওই কমান্ডার নিজের প্রভাব ব্যবহার করে স্থানীয় একটি আদালতের মাধ্যমে সেদিকাকে কারাদণ্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সেদিকাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বর্তমানে সেদিকার বয়স ১৭ বছর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ মাস ধরে তিনি তালেবানের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে তাঁকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা এবং নির্যাতনের কারণে কিশোরীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়েকে নিয়ে উদ্বেগ ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থাও গুরুতরভাবে অবনতি হয়েছে।
সেদিকার পরিবারের অভিযোগ, একটি শিশুকে জোর করে বিয়েতে বাধ্য করার পরিবর্তে তাঁর আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রভাবশালী ওই তালেবান কমান্ডারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো পরিস্থিতি পরিবারের ছিল না।
২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশুদের অধিকার সংকুচিত করা এবং বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের মতো ঘটনা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। দেশটিতে মেয়েদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চলাফেরার ওপরও তালেবান সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
সেদিকার ঘটনা আফগানিস্তানে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, জোরপূর্বক বিয়ে ও বাল্যবিবাহের মতো ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মেয়েরা।
তবে সেদিকার মামলায় আদালতের রায়, অভিযোগের ভিত্তি এবং কারাগারে তাঁর ওপর নির্যাতনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা তথ্য এখনও সীমিত। ফলে অভিযোগগুলোর সবকিছু স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au