রোহিঙ্গা সংকট পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে: সেনাপ্রধান
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। হোটেলটির ইজারাদার হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই ঘটনায় হোটেলের দুই কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগে। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আবু জাফরকে কলকাতার এনটালি মেইন মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হোটেলটির পরিচালনা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নিউমার্কেট থানায় হোটেলটিতে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একই সঙ্গে দমকল বাহিনী ও কলকাতার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া হয়।
দমকল ও পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালান। এ সময় হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
নিহতদের মধ্যে ৭ বাংলাদেশি
অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক এবং দুজন ভারতের। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার, একজন ঢাকার সাভারের এবং দুজন সাতক্ষীরার বাসিন্দা।
কুষ্টিয়ার নিহতরা হলেন দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাঁদের তিন বছর বয়সী ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম হোসেন (৬০)। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে পরিবারের সদস্যরা ভারতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ঢাকার সাভারের নিহত ব্যক্তি আহমেদ বাবু (৩৭)। সাতক্ষীরার নিহত দুজন হলেন এস এম আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকার। তাঁরা সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা।
নিহত ভারতীয়দের একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাশওয়ান। তিনি ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। অপরজন যোগনারায়ণ আগরওয়াল (৬৮)। তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে।
কলকাতার হোটেলগুলোর অনুমোদন যাচাই হবে
অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার বিভিন্ন হোটেলের বৈধ অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতায় পরিচালিত হোটেলগুলোর বৈধ অনুমোদনপত্র এবং অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ওই ভবনের তিনটি তলায় প্রায় ১০টি হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল। কক্ষগুলোও ছিল তুলনামূলক ছোট। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি জানান, শহরের অন্যান্য হোটেলেও একই ধরনের অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে গ্রেপ্তার আবু জাফর ও আটক দুই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে কলকাতা পুলিশ। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au