ঘিঞ্জি এলাকায় গড়ে ওঠা ‘শিখা ইন’ নামের ওই গেস্টহাউসে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ গেস্টহাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ফরেনসিক পরীক্ষায় আগুনের সূত্রপাত ও প্রাণহানির কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তৃতীয় তলার রিসেপশনে থাকা এসির তার বা পোর্ট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে বিষাক্ত ধোঁয়া দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত পাঁচতলা ভবনটির তৃতীয় তলায় গত বুধবার গভীর রাতে আগুন লাগে। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এসির একটি অংশ ফুলে যাওয়ার পর সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে অন্যান্য বৈদ্যুতিক তারেও আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তলায় ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের চেয়ে ধোঁয়াই প্রাণহানির মূল কারণ। ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে ৯ জনের মৃত্যু হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের তৃতীয় তলায় ছিলেন বাংলাদেশি এক সাংবাদিক, তার স্ত্রী, শিশু সন্তান ও বাবা। সাংবাদিকের বাবা একটি কক্ষে ছিলেন। অন্য কক্ষে ছিলেন সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যরা।
আগুন লাগার পর তারা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে হোটেলের প্যাসেজ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।রিসেপশনের পাশের একটি কক্ষে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান। তিনিও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। তার বুকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে জানা গেছে, আগুন থেকে বাঁচতে ভবনটির পেছনে জরুরি বের হওয়ার যে পথ ছিল, সেটিও দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ফলে আগুন লাগার পর অতিথিদের দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষজন ঘন ধোঁয়ার মধ্যে পড়ে যান। এ পরিস্থিতিই প্রাণহানি এত বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির লিজহোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার ও এক কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক মালিকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
গত বুধবার ভোররাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ গেস্টহাউসে আগুন লাগে। পরে সেখানে আটকে পড়া ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশের নাগরিক। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হন।
‘শিখা ইন’-এ অগ্নিকাণ্ডের পর নিউ মার্কেট এলাকার অন্যান্য হোটেল, গেস্টহাউস ও রেস্তোরাঁ-বারের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও তৎপর হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় নিউ মার্কেট এলাকার ৯টি গেস্টহাউস ও ৪টি রেস্তোরাঁ-বারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস আইনের ৩৭এ ধারায় এসব নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোথায় কী ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন