সিলেটে মাজারের দখল নিয়ে রণক্ষেত্র, ওসিসহ আহত ৪০
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের সিলাম এলাকায় একটি মাজারের ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ ও প্রায় ৪০টি দোকানকোঠার নিয়ন্ত্রণ এবং দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের…
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির শপথে গোপনীয়তা রক্ষার কোনো অঙ্গীকার নেই। সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতির শপথবাক্য নির্ধারিত থাকলেও সেখানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মতো রাষ্ট্রপতির জন্য আলাদা করে গোপনীয়তার শপথের বিধান রাখা হয়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের মত অনুযায়ী, বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়াবেন। শপথ অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
যা থাকবে রাষ্ট্রপতির শপথে
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার সময় বলবেন:
‘আমি ……………….., সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ (বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা) করিতেছি যে, আমি আইন-অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব; আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।’
এই শপথবাক্য পাঠ ও স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রপতির শপথ সম্পন্ন হবে। তবে এতে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে আলাদা কোনো অঙ্গীকার নেই।
কেন নেই গোপনীয়তার শপথ?
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক ও আলংকারিক পদ। রাষ্ট্র পরিচালনার নির্বাহী সিদ্ধান্তের জন্য রাষ্ট্রপতি সরাসরি দায়ী নন।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার যেসব কার্যক্রমের জন্য সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়ী হতে পারেন, তাদের জন্য গোপনীয়তার শপথের বিধান রাখা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের কোনো দায়যুক্ত নির্বাহী কার্যনির্বাহের দায়িত্বে না থাকায় তার শপথে আলাদাভাবে গোপনীয়তার অঙ্গীকার রাখা হয়নি।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানটির প্রস্তুতি যাচাই করতে আজ সকাল ১১টার পর দরবার হলে মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের আগে এ ধরনের মহড়া আয়োজন নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।
শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চে থাকবে তিনটি চেয়ার। সেখানে বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আসন গ্রহণ করবেন।
অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক মিনিট আগে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে প্রবেশ করবেন। এ সময় উচ্চস্বরে রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অর্কেস্ট্রার মাধ্যমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জাতীয় সংগীত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সম্মান জানাবেন।
এরপর অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি চাইবেন। অনুমতি পাওয়ার পর পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হবে।
পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বর্তমান রাষ্ট্রপতি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারকে মঞ্চে আসন গ্রহণের অনুরোধ জানাবেন। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর আহ্বান জানানো হবে।
শপথবাক্য পাঠের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি একটি ফোল্ডারে থাকা দুটি কাগজে স্বাক্ষর করবেন। এর একটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংরক্ষণ করবে। অন্যটি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য দেওয়া হবে।
এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠান শেষ হবে। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব অতিথিদের আপ্যায়ন পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাবেন।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির পাশাপাশি বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ ঘিরে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au