শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন ঠেকাতে না পেরে হতাশ র্যাব
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বারবার গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তির ঘটনায় হতাশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। তবে দুর্বল এজাহার বা তদন্তে গাফিলতির কারণে তারা জামিন…
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের সিলাম এলাকায় একটি মাজারের ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ ও প্রায় ৪০টি দোকানকোঠার নিয়ন্ত্রণ এবং দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে সিলাম চকবাজার এলাকায় হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদে আসেন। নামাজের আগে ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদের দোকানকোঠা এবং দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ও মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি, লতিফুর রহমান মেহদি, শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল ও শাহ সুমন রয়েছেন।
পরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের কারণে চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত পুলিশ সদস্যদেরও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং-১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। গত ২৯ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের এক আদেশে ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ওই কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি এবং ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়। এ ছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।
ওয়াকফ প্রশাসকের ওই আদেশের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। রিটটির নম্বর ১০৭৬৭/২৬। গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়।
শুনানি শেষে ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখা হয়। তবে সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে মাজার ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম বলেন, শনিবার এশার নামাজের পর দুই পক্ষের মুরব্বিদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au