কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখী মিছিল চলাকালে ছররা গুলি ছোড়ার অভিযোগে অবশেষে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে গত ২০ জুলাইয়ের ওই মিছিলে ছররা গুলিতে ১৯ বছর বয়সী সাহিল লোচাব আহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে শুক্রবার আহত সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পুলিশের উপকমিশনারের (ডিসিপি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। এরপরই দিল্লি পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১১৮(১) ও ১২৫ ধারায় করা হয়েছে। ১১৮(১) ধারায় বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আহত করার বিষয়টি এবং ১২৫ ধারায় মানুষের জীবন বিপন্ন করে বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত কাজের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগকারী সাহিল লোচাব গত ১৪ আগস্ট দিল্লি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তাঁর অভিযোগ, ২০ জুলাইয়ের মিছিলে ছররা গুলি ছোড়ার ঘটনায় তিনি আহত হন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ তাঁকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পরিচয় জানায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার প্রথমে লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় যান রাহুল গান্ধী। সেখান থেকে তাঁরা পার্লামেন্ট স্ট্রিটে কেন্দ্রীয় দিল্লির ডিসিপির কার্যালয়ে যান। সেখানে রাহুল গান্ধী অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, লোচাব ১৭ আগস্ট ই-মেইল ও ফোনের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু এরপরও তাঁকে তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম বা যোগাযোগের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি পুলিশ তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি।
রাহুল গান্ধী বলেন, ঘটনাটি গুরুতর এবং এটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এ ধরনের ঘটনায় পুলিশকে দ্রুত এফআইআর করা উচিত ছিল। কিন্তু অভিযোগ করার পরও দিল্লি পুলিশ মামলা না নেওয়ায় তিনি আহত তরুণকে সহযোগিতা করতে তাঁর সঙ্গে পুলিশ কার্যালয়ে গিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই সিজেপির নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখী মিছিল চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে ছররা গুলি ছোড়া হয়। এতে সাহিল লোচাব আহত হন। পরে তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এবং ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রাহুল গান্ধীর অবস্থান কর্মসূচি ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করার পর তিনি কর্মসূচি শেষ করেন। মামলা নেওয়ার ঘটনাকে ন্যায়বিচারের পথে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন কংগ্রেস নেতা।
এদিকে মামলা দায়েরের পর ঘটনার তদন্তের পথ খুলেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ছররা গুলি ব্যবহারের ঘটনা, তা কারা ব্যবহার করেছে এবং ওই ঘটনায় সাহিল লোচাব কীভাবে আহত হয়েছেন, সেসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। আহত তরুণের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত হওয়ায় এখন পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে কী তথ্য সামনে আনে, সেদিকেই নজর থাকবে।
সূত্রঃ এএনআই