মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
শুক্রবার ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস এই রায় দেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তর জানুয়ারিতে যে ভিসা স্থগিতের নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, অভিবাসন আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে কোনো দেশের নাগরিকদের শুধু তাদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার মতো ক্ষমতা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই। তাঁর মতে, জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা নিষিদ্ধ করার এই নীতি আইন নির্ধারিত ব্যবস্থাকেই কার্যত বাতিল করে দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই নীতি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর ছিল। এর আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে এবং বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশও ছিল।
এ ছাড়া আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকও এই নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়েন।
ভিসা স্থগিতের পক্ষে সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুক্তি দিয়েছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এর ফলে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছিল।
তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ না করে নীতিটিকে আইনগত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শুক্রবারের রায়ের পর এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা দুটি সংগঠন, ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার। মামলায় তাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরাও যুক্ত হন। পাশাপাশি নির্ধারিত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করা কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও মামলায় অংশ নেন।
বিচারক জেনেট ভার্গাস সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মনোনীত বিচারক। মামলার শুনানি শেষে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিতের নীতিকে বাতিল ঘোষণা করেন।
ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে আসছে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে অভিবাসীদের ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতিগত পরিচয় ও জাতীয়তার ভিত্তিতে সন্দেহ, হয়রানি এবং বৈষম্যের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে তারা দাবি করছে।
বিচারকের এই রায়ের ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ব্যাপক স্থগিতাদেশ বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ল। তবে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে এবং কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।