মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে দেরি করায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ও ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত কোনোটিই পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে না।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিনে শিলিগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের জন্য জমি দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হলেও তা দেওয়া হয়নি।
অমিত শাহ বলেন, বিএসএফকে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি দিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বারবার অনুরোধ করেছিলেন। ২০১৪ সাল থেকেই তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ১ হাজার ১২৯ একর জমি চেয়ে আসছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সরকার ওই জমি দিতে রাজি হয়নি।
অমিত শাহের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএসএফকে ওই জমি দেওয়া হয়েছে। এখন এসব জমিতে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফের কাছে ১ হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর করেছে তাঁর সরকার।
গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করা তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব জমির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। পশ্চিমবঙ্গের এই জেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। অতীতে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের জমি হস্তান্তরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনীহা দেখিয়েছে।
রাজ্যের নাগরিক সমাজের একটি অংশও দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পশ্চিমবঙ্গের জমি হস্তান্তরের বিরোধিতা করে আসছে। তাঁদের যুক্তি, পশ্চিমবঙ্গ জনবহুল রাজ্য হওয়ায় জমির ওপর এমনিতেই ব্যাপক চাপ রয়েছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রকে বিপুল পরিমাণ জমি দেওয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল।
বিভিন্ন সময়ে নাগরিক সংগঠনগুলো এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের সময় ভারত বাংলাদেশকে ১০ হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর করেছিল। সে সময়ও পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের একাংশ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
তবে বর্তমানে বিএসএফের কাছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জমি হস্তান্তর নিয়ে আগের মতো বড় ধরনের প্রতিবাদ বা প্রশ্ন দেখা যায়নি।
অমিত শাহের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গের আগের রাজনৈতিক বিরোধও আবার সামনে এসেছে। সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে ভারত দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে আসছে। তবে জমি অধিগ্রহণ, সীমান্তবর্তী বসতি ও স্থানীয় মানুষের আপত্তিসহ বিভিন্ন কারণে কিছু এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।