চুয়েটে লাকড়ির চুলায় রান্না চলছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- গ্যাস–সংকটে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবাসিক হলগুলোতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে হলের চুলায় গ্যাস না থাকায় সিমেন্টের ব্লক দিয়ে অস্থায়ী চুলা তৈরি করে লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্না করছেন ডাইনিংয়ের কর্মীরা।
সারি সারি অস্থায়ী চুলায় কোথাও ভাত, কোথাও তরকারি রান্না হচ্ছে। লাকড়ির ধোঁয়ায় রান্নাঘরের পরিবেশ হয়ে উঠছে অসহনীয়। এর সঙ্গে রয়েছে আগুনের তীব্র তাপ। বৃষ্টি হলে লাকড়ি ভিজে যাওয়ায় রান্নার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সময়মতো শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করাও ব্যাহত হচ্ছে।
চুয়েটে শিক্ষার্থীদের জন্য নয়টি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ছাত্রদের এবং তিনটি ছাত্রীদের জন্য। প্রতিটি হলে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ শিক্ষার্থীর খাবার রান্না করা হয়। গ্যাস–সংকটের কারণে আগের মতো বিভিন্ন পদের খাবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। সীমিত কয়েকটি পদেই খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
হলের ডাইনিংয়ে কী রান্না হবে, তা তদারকির দায়িত্বে থাকেন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপক তাহমিদ সুপ্ত বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় প্রতিদিনের রান্নার পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে কয়েক শ শিক্ষার্থীর খাবার প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু লাকড়ির চুলায় রান্না করতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী খাবারের পদ রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
তাপসী রাবেয়া হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপক সুনেহরা সুবাহ বলেন, প্রচণ্ড গরম ও ধোঁয়ার মধ্যে ডাইনিংয়ের নারী কর্মীদের রান্না করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে লাকড়ি ভিজে গিয়ে রান্নার সময় আরও বেড়ে যায়।
তাঁর ভাষ্য, অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হয় না। ফলে কিছু শিক্ষার্থী খাবার না খেয়েই ক্লাস বা পরীক্ষায় যেতে বাধ্য হন। গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তাপসী রাবেয়া হলের পুরকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত খানম বলেন, রান্নার সময় হলের আশপাশে গরম ও ধোঁয়ায় ভরে যায়। এতে কক্ষেও থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন এভাবে চললে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি কম কষ্টকর ও কার্যকর বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
কষ্ট বেড়েছে বাবুর্চি–কর্মীদের
গ্যাস–সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ডাইনিংয়ের বাবুর্চি ও কর্মচারীরাও। শহীদ আবু সাঈদ হলের বাবুর্চি মো. আলমগীর বলেন, এতসংখ্যক মানুষের জন্য প্রতিদিন লাকড়ি দিয়ে রান্না করা খুবই কষ্টকর।
তিনি বলেন, এক-দুই দিন লাকড়ি দিয়ে রান্না করা সম্ভব হলেও প্রতিদিন এভাবে রান্না করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্যাস–সংকটের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানটিনগুলোতেও। চুয়েটের অনেক অনাবাসিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস করেন। তাঁদের খাবারের অন্যতম ভরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও হলের ক্যানটিন।
কিন্তু গ্যাস না থাকায় ক্যানটিনগুলোতেও রান্না ব্যাহত হচ্ছে। শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের ক্যানটিনের ইজারাদার সজীব বলেন, গ্যাস না থাকায় সিলিন্ডার কিনে রান্না করতে হচ্ছে। এতে রান্নার খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
শুধু হল ও ক্যানটিন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক এলাকাতেও গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে আবাসিক শিক্ষকেরাও স্বাভাবিকভাবে গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছেন না।
রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোসাম্মাত রোকসানা খাতুন বলেন, সারা দিনই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। সমস্যাটি কত দিন চলবে, সেটিও অনিশ্চিত। দ্রুত এর সমাধান প্রয়োজন।
চুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী ও পুরকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেকুল আলম বলেন, মাতারবাড়ি থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস–সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, মাতারবাড়ির সরবরাহ–সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হলে চুয়েটেও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।