মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতি বছর একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি। কোথাও প্রাণহানি, কোথাও হাজারো ভবন ধসে পড়া, আবার কোথাও ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি। পরপর কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে, পৃথিবী কি বড় ভূমিকম্পের কোনো ‘সিসমিক স্টর্ম’ বা ভূমিকম্পের ঝড়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে?
তবে ভূতত্ত্ববিদদের মতে, কয়েকটি বড় ভূমিকম্প কাছাকাছি সময়ে ঘটলেই বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিক ভূমিকম্পের একটি নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। ভূমিকম্পের প্রকৃতি, দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান এবং কোন অঞ্চলে কতগুলো ভূমিকম্প হচ্ছে, সেসব বিষয় একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার, কলম্বিয়ার চাকো অঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এবং ভেনেজুয়েলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ ও ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর আগে ফিলিপাইনের মিন্দানাও অঞ্চলের কাছেও ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। এসব ঘটনায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতার কারণে প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৬ সাল কি অস্বাভাবিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ হয়ে উঠেছে? পৃথিবী কি এমন কোনো ভূমিকম্পপ্রবণ সময়ের দিকে যাচ্ছে, যার প্রভাব অতীতে বড় সভ্যতার ওপরও পড়েছিল?
কী এই ‘ভূমিকম্পের ঝড়’?
ভূতত্ত্ববিদেরা ‘ভূমিকম্পের ঝড়’ বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝান, যখন একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একই টেকটোনিক প্লেট বা সংশ্লিষ্ট ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে একের পর এক বড় ভূমিকম্প ঘটতে থাকে।
একটি বড় ভূমিকম্পের সময় ভূত্বকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়। এতে আশপাশের ফল্ট বা ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির ওপর চাপের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন অন্য একটি অংশে নতুন ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে পৃথিবীর এক প্রান্তে ভূমিকম্প হলে অন্য প্রান্তেও অবশ্যই বড় ভূমিকম্প হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকম্পগুলো স্থানীয় বা আঞ্চলিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্যদিকে ‘ভূমিকম্পের ঝাঁক’ বলতে সাধারণত একই এলাকায় স্বল্প বা মাঝারি মাত্রার একাধিক ভূমিকম্পকে বোঝানো হয়। আগ্নেয়গিরিপ্রবণ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ ম্যাগমার গতিবিধির সঙ্গেও এ ধরনের ভূমিকম্পের সম্পর্ক থাকতে পারে।
অতীতেও দেখা গেছে বড় ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতা
বড় ভূমিকম্প নতুন কোনো ঘটনা নয়। ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, কয়েক হাজার বছর আগেও বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক শক্তিশালী ভূমিকম্প মানুষের বসতি ও সভ্যতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণায় প্রাচীন গ্রিস ও তুরস্কের বিভিন্ন ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরীতে খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ১২০০ সালের দিকে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গবেষকদের একাংশের ধারণা, খ্রিষ্টপূর্ব ১২২৫ থেকে ১১৭৫ সালের মধ্যে এজিয়ান ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল। ওই সময় ভূমিকম্পের পাশাপাশি যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষও ছিল। এসব কারণ একসঙ্গে ব্রোঞ্জ যুগের কয়েকটি শক্তিশালী সভ্যতার পতনে ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করা হয়।
তবে শুধু ভূমিকম্পের কারণে ওই সভ্যতাগুলোর পতন হয়েছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বরং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট একাধিক সংকটের সম্মিলিত প্রভাবই বড় কারণ ছিল বলে মনে করেন গবেষকেরা।

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৩২।ছবিঃ সংগৃহীত
বছরে গড়ে প্রায় ২০ হাজার ভূমিকম্প
পৃথিবীতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০ হাজার ভূমিকম্প শনাক্ত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প ঘটে। এর অধিকাংশই এত দুর্বল যে মানুষ তা অনুভবও করতে পারে না।
প্রতি বছর সাধারণত ৬ থেকে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার প্রায় ১২০টি ভূমিকম্প ঘটে। এগুলোর অনেকগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে ভূমিকম্পের কেন্দ্র যদি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে হয় এবং ভবনগুলো দুর্বল হয়।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৬ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ৮২টি ভূমিকম্প হয়েছে। ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ১১টি। সাধারণত বছরে এ ধরনের প্রায় ১৬টি ভূমিকম্প হয়ে থাকে।
৮ বা তার বেশি মাত্রার ‘গ্রেট’ ভূমিকম্প সাধারণত বছরে প্রায় একটি ঘটে। আর ৯ বা তার বেশি মাত্রার ভয়াবহ ‘মেগাথ্রাস্ট’ ভূমিকম্প শতাব্দীতে কয়েকবার দেখা যায়। ২০১১ সালের জাপানের তোহোকু ভূমিকম্প ছিল এমনই একটি ভয়াবহ ঘটনা।
এই পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বড় ভূমিকম্পের সংখ্যা ঐতিহাসিক গড় থেকে নাটকীয়ভাবে বেশি নয়। ফলে চলতি বছরকে এখনই পৃথিবীর অস্বাভাবিক ভূমিকম্পপ্রবণ বছর হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। ছবিঃ রয়টার্স
তাহলে ক্ষয়ক্ষতি এত বেশি কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও এর ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। এর অন্যতম বড় কারণ দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় গড়ে ওঠা বড় শহরগুলোতে বসবাস করছে। এসব শহরে সুউচ্চ ভবন, শিল্পকারখানা, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। ফলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ক্ষতির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তরের হিসাবে, ১৯০০ সালের পর থেকে অন্তত ১২টি ভূমিকম্পে প্রতিটিতে ৫০ হাজার বা তার বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ঘটেছে ২০০০ সালের পর।
২০২৩ সালে তুরস্ক ও সিরিয়ায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। বিপুলসংখ্যক ভবন ধসে পড়ে এবং লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারান।
ভূমিকম্পের আর্থিক ক্ষতিও দিন দিন বাড়ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ১৯৭০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ভূ-প্রাকৃতিক দুর্যোগে আনুমানিক ১ দশমিক ৫৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন কি ভূমিকম্প বাড়াচ্ছে?
ভূমিকম্পের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। বিশেষ করে হিমবাহ গলে যাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রের ওপর চাপের পরিবর্তন ভূমিকম্পের সময় বা মাত্রায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে।
হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ ও রকি পর্বতমালার বিভিন্ন এলাকায় বরফ গলে যাচ্ছে। একই সময়ে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে সমুদ্রে গিয়ে জমা হচ্ছে। এর ফলে কোথাও স্থলভাগের ওপর চাপ কমছে, আবার কোথাও সমুদ্রতলের ওপর পানির চাপ বাড়ছে।
জার্মানির জিএফজেড হেলমহোল্টজ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের গবেষকেরা মনে করেন, সমুদ্রের অতিরিক্ত পানির চাপ কিছু ভূতাত্ত্বিক ফল্টের ওপর সামান্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ভূমিকম্পের স্বাভাবিক চক্রকে কিছুটা এগিয়ে দিতে পারে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত এখনো নেই। তাই জলবায়ু পরিবর্তনকে চলতি বছরের ধারাবাহিক বড় ভূমিকম্পের সরাসরি কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় ফের কম্পন । ছবিঃ সংগৃহীত
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস এখনো কঠিন
বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের কারণ ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি জানলেও ঠিক কখন, কোথায় এবং কত মাত্রার ভূমিকম্প হবে, তা নির্ভুলভাবে আগে থেকে বলা এখনো সম্ভব নয়।
ভূতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে কোনো এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো দিনে বা সপ্তাহে বড় ভূমিকম্প হবে কি না, তা নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার প্রযুক্তি এখনো বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় কিছু সময়ে বড় ভূমিকম্পের সংখ্যা বেশি ছিল। ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের দিক থেকে ২০২০ সাল ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই বছর এমন ২৩টি ভূমিকম্প হয়েছিল। বিপরীতে ১৯৮৯ সালে এ ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল মাত্র ছয়টি।
অর্থাৎ বড় ভূমিকম্পের সংখ্যায় বছরভেদে স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা হয়। কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প কাছাকাছি সময়ে ঘটলেই দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বদলে গেছে, এমনটা বলা যায় না।
বড় ভূমিকম্প মানেই সুনামির ঝুঁকি
সমুদ্রের নিচে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে আরেকটি বড় বিপদ তৈরি হতে পারে, সেটি হলো সুনামি।
সমুদ্রতলের ভূমিকম্পে বিশাল পরিমাণ পানি হঠাৎ স্থানচ্যুত হলে সুনামির ঢেউ তৈরি হয়। গভীর সমুদ্রে এসব ঢেউ ঘণ্টায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। উপকূলের অগভীর পানিতে পৌঁছানোর পর ঢেউয়ের গতি কমে গেলেও এর উচ্চতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। ফলে উপকূলীয় বড় শহরগুলোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সঙ্গে সুনামি যুক্ত হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ ও উপকূলীয় এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে ভূমিকম্প ও সুনামির সম্মিলিত ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২, ধসে পড়ল ১৩ ভবন। ছবিঃ সংগৃহীত
অনেক ফল্টই কি বড় ভূমিকম্পের অপেক্ষায়?
জার্মানির জিএফজেডের অধ্যাপক মার্কো বোনহফের মতে, বিশ্বের অনেক ভূতাত্ত্বিক ফল্ট তাদের স্বাভাবিক ভূমিকম্প চক্রের এমন পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে সামান্য অতিরিক্ত চাপও ভূমিকম্পের সময়কে এগিয়ে দিতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে নির্দিষ্ট কোনো ফল্টে এখনই ভূমিকম্প হবে। বরং ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এসব অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ, নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি প্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন।
২০২৬ কি সত্যিই ‘নতুন স্বাভাবিক’?
চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যান বলছে না যে পৃথিবী একটি নতুন ভূমিকম্পপ্রবণ যুগে প্রবেশ করেছে।
বরং বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই ছিল এবং থাকবে। পার্থক্য হলো, বর্তমানে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় মানুষের বসবাস আগের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে একই মাত্রার ভূমিকম্পও অতীতের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের ধারাবাহিক ভূমিকম্পকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখার চেয়ে এটিকে প্রস্তুতি বাড়ানোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা বেশি জরুরি। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস এখনো নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব না হলেও শক্তিশালী ভবন নির্মাণ, পুরোনো স্থাপনা সংস্কার, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা এবং জনগণকে ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করা গেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সুতরাং ২০২৬ সালকে এখনই পৃথিবীর ‘নতুন ভূমিকম্পের স্বাভাবিকতা’ বলা যাচ্ছে না। কিন্তু একই সঙ্গে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি যে বাস্তব এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে এর সম্ভাব্য ক্ষতি যে আরও ভয়াবহ হতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেটিই আবার সামনে এনেছে।
সূত্রঃ নিউজ. কম. এইউ