গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের জেলায় জেলায় বিক্ষোভ হয়েছে। এই বিক্ষোভ থেকে সিলেটসহ অন্তত পাঁচ জেলায় কেএফসি, পিৎজা হাট, বাটাসহ এক ডজনেরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক।
গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে সোমবার (০৭) এপ্রিল) বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এই বিক্ষোভ থেকেই হামলার ঘটনাগুলো ঘটে।
এই কর্মসূচির আগে থেকেই গাজায় হামলার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু গ্রুপ ও পেজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
ওই প্রচারণায় সাড়া দিয়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কেএফসি ও বাটার শোরুমে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বগুড়া ও গাজীপুর জেলায় কেএফসি, পিৎজা হাট ও বাটার শোরুমসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সিলেটে বাটার একটি শোরুমে হামলার পর লুটপাট করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া পাওয়া না গেলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় ঢাকাসহ অনেক স্থানে হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত করেছে।
সোমবার সন্ধ্যার পর ঢাকার কোনো এলাকায় কেএফসি’র শাখা বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে
এমন প্রেক্ষাপটে পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জড়িতদের গ্রেফতারের ওই নির্দেশ দেন।
পুলিশের আইজি বলেছেন, আমাদের কাছে হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ আছে। তাদের (হামলাকারীদের) চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হবে। সে ব্যাপারে পুলিশের টিম কাজ করছে।
বাহারুল আলম এ-ও বলেন, সরকার কোনো আইনি আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে না। তবে প্রতিবাদের নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করব না।
এদিকে, বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার ব্যাপারে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, এমন এক সময়ে যখন আমরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য একটি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছি, তখন আমাদের এ ধরনের উদাহরণ স্থাপন করা দুঃখজনক।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন আরও বলেন, এসব ব্যবসার বেশিরভাগই স্থানীয় বিনিয়োগকারী, কেউ কেউ বিদেশি যারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করতেন। তারা সবাই দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। যারা এই জঘন্য ভাঙচুর করেছে, তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার প্রকৃত শত্রু।