রোহিঙ্গাদের ৩৫ শতাংশ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার নয় বছর পরও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় চলতি…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- মিয়ানমারে নিপীড়ন ও গণহত্যার অভিযোগের মুখে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্তিতে ন্যায়বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী বসতি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন তারা।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে তাদের বসবাস চলছে। দীর্ঘ নয় বছর পার হলেও অধিকাংশ রোহিঙ্গার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বিক্ষোভে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে তাদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও বাস্তুচ্যুতির জন্য ন্যায়বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা, অধিকার ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান তারা।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বৃহৎ শরণার্থী শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের এই বিক্ষোভ ও তাদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী হিসেবে জীবন কাটাতে গিয়ে তারা নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। নিজেদের ঘরবাড়ি ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা থাকলেও নিরাপদ পরিবেশের অভাবে সেই প্রত্যাবাসন এখনো সম্ভব হয়নি।
রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, মিয়ানমারে তাদের ওপর যে সহিংসতা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার যথাযথ বিচার এখনো হয়নি। ফলে শুধু বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়াই নয়, সংকটের মূল কারণ সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
নয় বছর ধরে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের অনেকেই এখনো মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান। তবে তারা বলছেন, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার ও নিজেদের ভিটেমাটিতে ফেরার নিশ্চয়তা ছাড়া তারা সেখানে ফিরে যেতে প্রস্তুত নন।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au