শুল্ক বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি কানাডার
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ আরও বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রধান…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- বাংলাদেশে একের পর এক তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে এলেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই এসব ঘটনা সময়মতো শনাক্ত করতে পারছে না। এতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা, নজরদারি ও তথ্য সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ ডার্ক ওয়েবের একটি ফোরামে বাংলাদেশের প্রায় ৬০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার দাবি করেছে ‘ম্যাডার্ক্স’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি সরকারি এবং ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে। এ ধরনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ২০টি। এ ছাড়া বেসরকারি কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ১৬টি, নির্বাচন কমিশনসংশ্লিষ্ট পাঁচটি, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পাঁচটি, সশস্ত্র বাহিনীতে তিনটি এবং বেসরকারি ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে তিনটি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, তথ্য ফাঁসের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে পর্যাপ্ত বাজেট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি অন্যতম। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে পুরোনো অনেক ব্যবস্থায় নতুন নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর তা দ্রুত ঠিক করা বা প্রয়োজনীয় হালনাগাদ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা তথ্য চুরি করতে পারে।
তবে তাঁর মতে, পুরোপুরি সাইবার ঝুঁকিমুক্ত হওয়া সম্ভব না হলেও নিয়মিত আইটি অডিট, ভিএপিটি, সাইবার ড্রিল, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদানে এনক্রিপশন এবং শক্তিশালী নিরাপত্তানীতি চালুর মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজেরা তথ্য ফাঁসের বিষয়টি শনাক্ত করতে পারছে না। সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হতে পারে। কিন্তু হামলার পরও দীর্ঘ সময় সেটি শনাক্ত করতে না পারা আরও গুরুতর সমস্যা। এতে প্রতিষ্ঠানের শনাক্তকরণ সক্ষমতা, নিয়মিত নজরদারি, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং হামলার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
সর্বশেষ ঘটনায় ‘ম্যাডার্ক্স’ দাবি করেছে, তারা চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের তথ্যভান্ডার থেকে প্রায় ৬০ লাখ সিভি সংগ্রহ করেছে। তবে বিডিজবস তাদের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিবন্ধিত নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারে। কোনো নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির চেষ্টা করেছে এবং তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদেরা বলছেন, ৬০ লাখ সিভি ফাঁসের দাবি সত্যি হলে এর ঝুঁকি ব্যাপক হতে পারে। কারণ একটি সিভিতে সাধারণত ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের তথ্য, দক্ষতা, ছবি ও কখনো ঠিকানার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। এসব তথ্য একসঙ্গে অপরাধীদের হাতে গেলে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি, লক্ষ্যভিত্তিক প্রতারণা, ফিশিং ও সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণার মতো অপরাধে ব্যবহার করা সম্ভব।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই তথ্য ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্য সুরক্ষা পদ্ধতি কার্যকর করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মিত তদারকি জরুরি। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ এখন অত্যন্ত জরুরি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au