বিশাল বহর নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন শি চিন পিং
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তাঁর…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ আরও বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রধান ডগ ফোর্ড। তাঁর এমন বক্তব্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়াতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন ডগ ফোর্ড।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ডগ ফোর্ড বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্টারিও থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কিংবা বিদ্যুৎ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
ডগ ফোর্ড বলেন, অন্টারিও বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তাই কানাডার উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকেও এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি উৎস কানাডা। তবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কানাডার ওপর নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।
ডগ ফোর্ডের হুমকির জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কানাডার নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ বাড়ানো উচিত নয়। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার তুলনায় অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া কানাডার টিকে থাকা কঠিন হবে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক আরোপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। অন্টারিও সত্যিই বিদ্যুৎ রপ্তানি কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতাও নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au