বিয়ে ঠিক হয়নি তাদের, প্রেমিকের বেকারত্ব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন আগামী চক্রবর্তী
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- রংপুরের চার হত্যাকাণ্ড নিয়ে ওটিএন বাংলার হাতে নতুন তথ্য এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিহত আগামী চক্রবর্তী ও তাঁর প্রেমিক অদিত করের বিয়ে ঠিক…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে আগামী সোমবার নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি শেষে নতুন তারিখ ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। তিনি জানান, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে থাকায় রায়ের জন্য সময় প্রয়োজন। পরে আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী সোমবার রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। রমজানের ছুটিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। মামলার প্রধান আসামি ও শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যারও চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই বছরের ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। ২০২৫ সালের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামি, শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীব শেখের ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে আইন অনুযায়ী তা কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। সে অনুযায়ী গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছায়।
এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। এখন আগামী সোমবার হাইকোর্টের রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au