রোহিঙ্গাদের ৩৫ শতাংশ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার নয় বছর পরও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় চলতি…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের পর নতুন করে ধর্ষণের আলামত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ময়নাতদন্তের কাজে নিয়োজিত এক ডোম দাবি করেছেন, নিহত তরুণী আগামী চক্রবর্তী ও তাঁর মা প্রীতিলতা চক্রবর্তীর যৌনাঙ্গে বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, চিকিৎসকের নির্দেশে এসব নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে ডোমের বক্তব্য ও চিকিৎসকের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ময়নাতদন্তের কাজে নিয়োজিত ওই ডোমকে এ বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘মেয়েটার যৌনাঙ্গে বীর্য পাওয়া গিয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসক তাঁকে ধর্ষণের কোনো আলামত রয়েছে কি না, তা দেখতে বলেন। পরে তিনি বীর্যের মতো পদার্থ দেখতে পান এবং চিকিৎসকের নির্দেশে নমুনা সংগ্রহ করে রাখেন।
ওই ডোমের দাবি, চারটি পৃথক স্থানে বীর্যের নমুনা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি নমুনা পুলিশ নিয়ে গেছে এবং দুটি মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, চিকিৎসক বিষয়টি অস্বীকার করছেন কেন। জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি তা বলতে পারলাম না। ডাক্তার জানে আর রিপোর্ট জানে।’
তিনি আরও দাবি করেন, নিহত তরুণীর মায়ের যৌনাঙ্গেও বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং সেখান থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য
রংপুর মেডিকেল কলেজের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানিয়েছেন, মরদেহগুলোতে এসিড বা কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামতও পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ফলে ডোমের দাবি সত্য কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। সংগৃহীত নমুনাগুলো পরীক্ষার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ময়নাতদন্তের সময় কোনো তরল পদার্থ বা বীর্যের মতো উপাদান পাওয়া গেলেই সেটিকে ধর্ষণের আলামত হিসেবে চূড়ান্তভাবে ধরে নেওয়া যায় না। সেটি কার, কী ধরনের পদার্থ এবং কীভাবে সেখানে এসেছে, তা ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
মরদেহ বিকৃতির কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা
চার মরদেহের অস্বাভাবিক অবস্থাকে ঘিরেও শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। নিহতদের স্বজনদের দাবি, মরদেহে ভয়াবহ বিকৃতির চিহ্ন দেখা গেছে। এ নিয়ে এসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের সন্দেহ তৈরি হয়।
তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, এসিড বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত গরমের কারণেও মরদেহের কিছু অংশের চেহারা ও শরীরের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হতে পারে। তবে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
এ কারণে মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
চারটি বিষয় খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা
রংপুর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুর সময়, মৃত্যুর কারণ, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, এই চারটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বলেন, এসব বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসককেও বিষয়গুলো বিশেষভাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
সিআইডি ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, সিগারেটের টুকরা, ফয়েলসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। এসব আলামতও পরীক্ষার আওতায় রয়েছে।
সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।
গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তি
এর আগে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা নিহত পরিবারের বাড়ির আশপাশের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, শিক্ষকের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয় বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধর্ষণ, মরদেহ বিকৃতি, সম্ভাব্য রাসায়নিক ব্যবহার এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামতের সম্পর্ক কী, তা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
ইতোমধ্যে মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং গ্রেপ্তার দুই আসামি ছাড়াও অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au