পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোনের আঘাত, ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলল ভারত।
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- পাকিস্তানের সারগোদার কাছে কিরাণা হিলসে ভারতীয় একটি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা ইচ্ছাকৃত ছিল না বলে দাবি করেছেন ভারতের সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা ও রাডার শনাক্ত করতে পাঠানো একটি হারোপ ড্রোন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো লক্ষ্য খুঁজে না পাওয়ার পর জ্বালানি শেষ হয়ে ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে।
ভারত-পাকিস্তানের সামরিক উত্তেজনার সময় ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অংশ হিসেবে সারগোদা ও আশপাশের এলাকায় একাধিক লোইটারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এসব ড্রোনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের রাডার ও সামরিক স্থাপনা শনাক্ত করা।
নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ সেন্টারে দেওয়া এক বক্তব্যে জেনারেল অনিল চৌহান বলেন, ভারত কিরাণা হিলসকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। তার দাবি, ড্রোনগুলোর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আকাশে অবস্থান করার সক্ষমতা ছিল। ওই সময়ের মধ্যে কোনো লক্ষ্য শনাক্ত করতে না পারলে ড্রোনটি শেষ পর্যন্ত কোথাও গিয়ে আঘাত করতে পারে।
তিনি বলেন, সারগোদা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে কিরাণা হিলস এলাকায় একটি ড্রোন সম্ভবত জ্বালানি শেষ হয়ে পাহাড়ে আছড়ে পড়ে। এ কারণে ঘটনাটিকে কিরাণা হিলসের নির্দিষ্ট স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের সাবেক এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা আরও জানান, কিরাণা হিলসে হামলার বিষয়ে ভারতের বিমানবাহিনীর তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটিই সঠিক ছিল। তিনি বলেন, কিরাণা হিলসকে ভারতের হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
জেনারেল অনিল চৌহান আরও জানান, ওই সময় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্কার্দু এলাকাতেও বিমান হামলার অনুমোদন দিয়েছিল ভারত। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে সেই অভিযান বাতিল করা হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের বিমানবাহিনী প্রধান সারগোদায় হামলার বিষয়ে তার অনুমতি চাইলে তিনি আরও দুটি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে একটি ছিল স্কার্দু। হামলার অনুমোদন দেওয়া হলেও পরে স্কার্দুর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা পরিবর্তন করে অন্য একটি স্থানে হামলা চালানো হয়।
ঘটনার প্রায় এক বছর পর ভারতীয় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কিরাণা হিলসে ড্রোন আঘাতের বিষয়ে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। কিরাণা হিলসকে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত এলাকার একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সেখানে ভারতীয় ড্রোন আঘাতের ঘটনা নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক উত্তেজনার সময় থেকেই নানা আলোচনা ও জল্পনা ছিল।