রুশ নাগরিকের মালিকানাধীন একটি বাড়ি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সুইডেন।
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনার সুরক্ষার স্বার্থে রুশ নাগরিকের মালিকানাধীন একটি বাড়ি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সুইডেন। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী রাজধানী স্টকহোমের দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘মুসকো’ নৌঘাঁটির কাছের একটি সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন সম্পত্তি সরকারের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশ করেছে।
সুইডিশ গণমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িটির সঙ্গে রাশিয়ার সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে পরিচিত এক ধনকুবের ব্যবসায়ীর নাম জড়িত রয়েছে। তবে আইনি নথি অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মালিক তার স্ত্রী, যিনি রাশিয়া ও সুইডেন উভয় দেশের নাগরিক। ২০১৭ সাল থেকে তার নামেই বাড়িটির মালিকানা রয়েছে।
সুইডেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, মুসকো নৌঘাঁটির অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন এবং রাশিয়ার সম্ভাব্য নজরদারি বা গোয়েন্দা তৎপরতার আশঙ্কা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ কারণে নৌঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত এ সম্পত্তি দেশের প্রতিরক্ষার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুইডিশ সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলা প্রতিরোধ এবং নৌঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ওই জমির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘এসভিটি’ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটি সুইডিশ সামরিক বাহিনীর নজরদারির মধ্যে ছিল।
সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পল জনসন বলেছেন, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য যেন বাইরে না যায় এবং কোনো প্রতিপক্ষ যাতে কৌশলগত সুবিধা নিতে না পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, সুইডিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ কার্ল-জোহান এডস্ট্রম সতর্ক করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমানে সুইডেন সবচেয়ে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি রয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রায় দুই শতাব্দীর সামরিক নিরপেক্ষতার নীতি ভেঙে ন্যাটো জোটে যোগ দেয় সুইডেন। এরপর থেকেই দেশটি জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থাপনার সুরক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে রুশ নাগরিকের মালিকানাধীন এই সম্পত্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে রয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি