ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্ক কার্নি। ছবি : এনডিটিভি
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০০টি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। মঙ্গলবার কানাডার কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে।
কানাডা জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি কানাডীয় ডলার, যা প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, মূল্যের মার্কিন পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসবে। তালিকায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র, পোশাক, প্রাকৃতিক মধু, মেকআপ, পারফিউম, তাজা টুনা মাছসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
এর মধ্যে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র, পোশাক, মধু, প্রসাধনী ও পারফিউমের মতো কয়েকটি পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। ডিশওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন, পনির, সামুদ্রিক খাবার এবং নির্দিষ্ট কিছু ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্যে ২৫ শতাংশ এবং ফর্কলিফ্ট ও এয়ার কন্ডিশনারসহ কিছু যন্ত্রপাতিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে ‘সমানুপাতিক’ ও ‘কৌশলগত’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কানাডা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের সহায়তায় সরকার অতিরিক্ত ৭৫০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করাই এই অর্থের মূল লক্ষ্য।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই অটোয়া নতুন শুল্কের তালিকা প্রকাশ করেছে।
হোয়াইট হাউস অবশ্য কানাডার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে বিশেষ বাজার সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কানাডা অযৌক্তিক দাবি করে আলোচনার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকানো এবং মার্কিন কৃষকদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নয় উল্লেখ করে দেশটির জন্য আর কোনো বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি কানাডার শিল্পখাতকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস করার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃবিবিসি