সীমান্ত দাস আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মামলার প্রধান দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু সীমান্ত চন্দ্র দাস আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামির জবানবন্দির মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে সীমান্ত চন্দ্র দাসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সীমান্ত নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি একটি মার্কেটে কাপড়ের দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, সীমান্ত তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তার বক্তব্যের সঙ্গে আসামিদের দেওয়া তথ্যের মিল পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে আসামিরা পুলিশকে জানিয়েছিলেন। সীমান্তও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে একই তথ্য জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই রাতের ঘটনাপ্রবাহের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুধবার (২৬ আগস্ট) ডোপ টেস্টের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেগুলোরও তদন্তের মাধ্যমে উত্তর খোঁজা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত রোববার নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছ থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেওয়ার পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন। নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে তিনি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন এবং প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়ির দোতলায় বসবাস করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। পরে নিহত চারজনের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই রংপুর নগরের দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যার পেছনের পুরো ঘটনা বের করতে তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।