রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, তেল শোধনাগারে আগুন। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের আফিপস্কি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। একই হামলায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আফিপস্কি রেলস্টেশনে দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর আফিপস্কি তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। হামলায় শোধনাগারের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আফিপস্কি তেল শোধনাগারের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই রাতে রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন।
ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জ্বালানি খাত থেকে দেশটির আয় কমিয়ে দেওয়া।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই রাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে ওডেসার কাছে পিভদেনি বন্দরে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক পণ্য বহনকারী একটি জাহাজ এবং সামরিক সরঞ্জাম খালাসে ব্যবহৃত বন্দর অবকাঠামোতে হামলা চালানোর দাবিও করেছে মস্কো।
তবে ইউক্রেনের এসব হামলার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর দেশটির কিছু এলাকায় জ্বালানি সংকটও তীব্র হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার (২৫ আগস্ট) একটি সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এতে হামলা থেকে যথাযথভাবে সুরক্ষিত নয় এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর নেতারা কিয়েভে বৈঠক করে দেশটিকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলার সক্ষমতা বাড়াতে ইউক্রেন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন আরও বাড়াতে চায়।
৩০টি দেশের নেতাদের নিয়ে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি ও উসকানি বাড়তে পারে।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ইউক্রেনের মিত্রদের রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়াতে কিয়েভকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ক্রেমলিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও আলেকজান্ডার স্টাবকে ‘যুদ্ধপন্থি’ অবস্থানের জন্য সমালোচনা করেছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা