ব্রাজিলকে ঢাকায় আনতে খরচ হতে পারে ৩৭ কোটি টাকা।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- ঢাকায় ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রস্তাবিত প্রীতি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ম্যাচটি আয়োজন করতে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার এই অর্থ ব্যয় করতে রাজি নয়।
সম্প্রতি ঢাকায় এসে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একটি প্রতিনিধিদল আগামী ৫ বা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ম্যাচটি আয়োজনের ক্ষেত্রে অর্থের পাশাপাশি ফিফার নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, সরকার কোনোভাবেই এই ম্যাচের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে চায় না। তার ভাষ্য, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের পেছনে সরকারি অর্থ খরচ করা যুক্তিসংগত হবে না।
তিনি বলেন, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, ব্রাজিলকে ঢাকায় এনে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৩০ লাখ ডলার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এই অর্থ ব্যয়ের পক্ষে সরকার নেই। বাফুফে যদি বেসরকারি স্পনসর সংগ্রহ করে ম্যাচ আয়োজন করতে পারে, তাহলে সরকার প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা করবে।
বাফুফের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, তিনি বাফুফে সভাপতিকে জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষে এই অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বেসরকারিভাবে অর্থের ব্যবস্থা করে ম্যাচ আয়োজন করা গেলে সরকার সহযোগিতা করবে।
এর আগে ২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) প্রায় ৩৮ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছিল। সে সময় করপোরেট স্পনসরশিপ, ব্যাংকঋণ এবং টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সেই ব্যয় মেটানো হয়েছিল।
এবারও বেসরকারি স্পনসরদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। তবে ম্যাচটি আয়োজনের জন্য ঠিক কত টাকা প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে বাফুফের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হিসাব জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা দলের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে ফিফার নিয়মও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চারটি ‘টায়ার-১’ ম্যাচ খেলতে পারবে। ইতোমধ্যে আসিয়ান কাপের চারটি ম্যাচ দিয়ে সেই সুযোগ পূরণ হয়ে যাওয়ায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি হলে তা পঞ্চম ম্যাচ হয়ে যাবে। ফলে নিয়মের কারণে প্রস্তাবিত ম্যাচটি আয়োজনের সম্ভাবনা কমে গেছে।
আমিনুল হক অবশ্য মনে করেন, ব্রাজিলের মতো দলের খেলা হলে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হবেন, তবে শুধু ব্রাজিলকে এনে একটি ম্যাচ খেলালেই বাংলাদেশের ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না।
সব মিলিয়ে অর্থের জোগান এবং ফিফার আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচি, দুই দিক থেকেই ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচটি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।