আগুনে বাড়িটি পুরো পুড়ে যাওয়ায় তদন্তের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: এপি
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংস শহরের বাইরে একটি বাড়িতে পারিবারিক নৈশভোজে জড়ো হওয়া স্বজনদের ওপর গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যা করেছেন ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। নিহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার পর আত্মঘাতী গুলিতে মারা যান।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাতে বিলিংস শহরের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা একই পরিবারের চার প্রজন্মের সদস্য। তাদের মধ্যে ৯০-এর কোঠার এক প্রবীণ নারী থেকে শুরু করে মাত্র ৭ বছর বয়সী শিশুও ছিল।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বাড়িটিতে পৌঁছালে ভেতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান। এর পরপরই বাড়িটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাড়িটি পুড়ে যায়। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, হামলাকারী নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটির তদন্তও জটিল হয়ে পড়েছে।
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হামলাকারী অ্যালান স্মিথের বোন মেগান গ্যাকিয়ের, তার দুই সন্তান ১৩ বছর বয়সী ওয়েন আয়ারল্যান্ড ও ৭ বছর বয়সী ক্লো আয়ারল্যান্ড। মেগানের বর্তমান স্বামীর আগের পক্ষের দুই সন্তান ১৫ বছর বয়সী ল্যান্ডন গ্যাকিয়ের ও ১২ বছর বয়সী শার্লট গ্যাকিয়েরও নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া অ্যালান স্মিথের মা ডানা স্মিথ, বাবা বার্ব স্মিথ এবং ৯৫ বছর বয়সী দাদি ইভলিন স্মিথও গুলিতে নিহত হন।
পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানান, হামলার সময় ১২ বছর বয়সী শার্লট গ্যাকিয়ের সাহসিকতার সঙ্গে জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেছিল। পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচাতেও সে চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পরিবারের এক সদস্য জানান, অ্যালান স্মিথকে তার মা-বাবা কয়েক সপ্তাহ আগে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন। এরপর থেকেই পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। ওই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
অ্যালান স্মিথের সাবেক ভগ্নিপতি ব্র্যাড আয়ারল্যান্ড জানান, অ্যালান ছিলেন অত্যন্ত একাকী ও অসামাজিক প্রকৃতির মানুষ। দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি নিজের ঘরে কম্পিউটারে কাটাতেন। তার আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। তবে পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার আচরণে মানসিক অস্থিরতা ও উগ্রতার লক্ষণ ছিল।
নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এটি ২২তম গণহত্যার ঘটনা। এর মধ্যে ১৫টি ঘটেছে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে। গত এপ্রিলের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।