সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ গোপনে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস। তবে তার সফরের উদ্দেশ্য এবং রাশিয়ার কোন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন বা করবেন, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান অবতরণ করে। বিমানটির বিষয়ে প্রথম দিকে ক্রেমলিন জানায়, এ সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কয়েক ঘণ্টা পরই সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফের মস্কো সফরের খবর সামনে আসে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যেও র্যাটক্লিফের সফরের বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পরে মার্কিন সামরিক বিমানটি মস্কো থেকে লাটভিয়ায় ফিরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মস্কোর রাস্তায় একটি কূটনৈতিক বহর চলাচল করতেও দেখা গেছে। তবে ওই বহরে র্যাটক্লিফ ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সিবিএসকে এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, র্যাটক্লিফের সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মস্কো সফরের কথা জানিয়েছিল। প্রতিনিধিদলটি রাশিয়া ত্যাগ না করা পর্যন্ত ইউক্রেনকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
সিআইএ পরিচালক হিসেবে র্যাটক্লিফের এটি প্রথম রাশিয়া সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মস্কোয় থাকা রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন বলে জানা গেছে।
সাবেক ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা জন ফোরম্যান মনে করেন, র্যাটক্লিফের আকস্মিক সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা। জার্মানিতে সাম্প্রতিক ড্রোন তৎপরতায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেই বিষয়টিও সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এ ছাড়া রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে রাশিয়ায় এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকা রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনায় র্যাটক্লিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
২০২৪ সালে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্দিবিনিময় চুক্তিতেও সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই চুক্তির আওতায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গেরশকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভাসহ বেশ কয়েকজন বন্দি মুক্তি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর র্যাটক্লিফই রাশিয়া সফর করা সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ওই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আলোচনাও বর্তমানে অনেকটাই স্থবির হয়ে আছে।