রংপুরের আলোচিত চার হত্যা: প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় ভক্ত সংঘ সোসাইটি বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশন, বাংলাদেশ দেশওয়ালী সমাজ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট ও বাংলাদেশ লোকনাথ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন।
সমাবেশ থেকে দেশে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান বক্তারা।
তাঁদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; উগ্রবাদ ও মৌলবাদী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ দেশের সব নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তীর (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।
সমাবেশে বাংলাদেশ দেশওয়ালী সমাজের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল প্রসাদ কানু বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের ঘরেও নিরাপদ বোধ করছেন না। একদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং গ্যাস ও পানির সংকটের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে; অন্যদিকে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এর পাশাপাশি একের পর এক অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ভক্ত সংঘ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্তোষ তালুকদার এবং সন্তোষ চন্দ্র দাসসহ অন্যরা।